Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৬
৩ থেকে ৭ মার্চের মধ্যে উপজেলার প্রথম ধাপে ভোট
ইসি বসছে আজ, ঢাকা উত্তর সিটি ও নারী আসন নিয়েও হতে পারে সিদ্ধান্ত
গোলাম রাব্বানী

এবার পাঁচ ধাপে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৭ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের তারিখ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। গতকাল দিনভর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সঙ্গে প্রথম ধাপে কয়টা উপজেলার ভোট হবে সেই তালিকাও তারা প্রস্তুত করেছেন।

এদিকে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ও কিশোরগঞ্জ-১ শূন্য আসনের নির্বাচন নিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। আজ বেলা ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে উপজেলা ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনের তফিসলও ঘোষণা হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা সভার নোটিস পেয়েছি। কিন্তু বিস্তারিত কাগজপত্র পাইনি। বৈঠক আছে, পর্যালোচনা হবে।’ ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘কাল (আজ) বৈঠক আছে। বৈঠকে সবকিছু পর্যালোচনা হবে। এরপর ইসি যা সিদ্ধান্ত দেবে তা প্রতিপালন করা হবে।’ তফসিল হবে কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জারি করা ৪৩তম কমিশন সভার নোটিসের আলোচ্যসূচিতে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ ও কিশোরগঞ্জ-১ শূন্য আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি রাখা হয়েছে।’

৩ থেকে ৭ মার্চের মধ্যে উপজেলা নির্বাচন : নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা বলেছেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তিন ধরনের চিন্তা করছে ইসি। আজ তফসিল ঘোষণা হলে প্রথম ধাপের উপজেলায় ভোট গ্রহণের জন্য ৪০ থেকে ৪৪ দিন হাতে রাখা হবে, ভোট হবে ৩ অথবা ৭ মার্চ। আর তফসিল থেকে ভোট পর্যন্ত ৩২ থেকে ৩৩ দিন হাতে রাখা হলে ফেব্রুয়ারির শুরুতেও তফসিল দিতে পারে ইসি। এ ক্ষেত্রে মার্চের শুরুতেই ভোট হবে। সেই সঙ্গে একই দিন যত বেশি উপজেলায় নির্বাচন করা যায় সেই চিন্তাও করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রথম ধাপের উপজেলার সঙ্গে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন, উত্তর দক্ষিণে ৩৬ ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচনও করা যায় কি না তাও চিন্তা করা হচ্ছে। এর আগে চতুর্থ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের জন্য ইসি তফসিল থেকে নির্বাচন পর্যন্ত ৩০ দিন হাতে রেখেছিল। ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি তফসিল দিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোট করা হয়। তবে ইসির আজকের বৈঠকেই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।

ইসির আলোচ্যসূচিতে ৯ বিষয় : নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব শাহেদুন্নবী চৌধুরী স্বাক্ষরিত ইসির ৪৩তম সভার নোটিসে দেখা গেছে, ৯টি বিষয় রাখা হয়েছে ইসি সভার আলোচ্যসূচিতে। এর মধ্যে প্রথম রয়েছে- কিশোরগঞ্জ-১ শূন্য আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা; ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন; পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা; সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন; পৌরসভা-ইউনিয়ন-জেলা পরিষদের সাধারণ ও উপনির্বাচন; গাইবান্ধা-১ আসনের নির্বাচনের অগ্রগতি; ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটার দিবস পালন; উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বিধিমালা; উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ এবং বিবিধ বিষয়। এর আগে ইসির ৪২তম কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছিলেন, মার্চ থেকে ভোট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল করবে ইসি। তিনি বলেন, এসএসসি, এইচএসসি ও রমজান মাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে ভোট শুরু করা হবে। এ লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। বিভাগওয়ারি ভোটের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সচিব বলেন, দেশের আট বিভাগের উপজেলাগুলোয় চার দিনে চার ধাপে ভোট করা হবে। বাকিগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ কবে হচ্ছে তা বিবেচনায় নিয়ে আরেকটি ধাপে ভোট শেষ করা হবে। সে ক্ষেত্রে পাঁচ ধাপে ভোট করা হচ্ছে। ইভিএমের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সচিব জানান, সদর উপজেলাগুলোয় ইভিএম ব্যবহার করা হবে। জেলার সংশ্লিষ্ট সদর উপজেলায় পুরোপুরি ইভিএম ব্যবহার করা হবে। দেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাসে ছয় ধাপে ভোট করে তৎকালীন ইসি। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সালে ছয় ধাপে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন করেছিল। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ছয় দিনে প্রায় ৫০০ উপজেলায় পালাক্রমে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে এক দিনেই ভোট হয়েছিল। আগের উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও আইনটি তার পরে সংশোধিত হওয়ায় এবার বড় পরিসরে দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন হবে। সেই সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারও হবে এই ভোটে। উপজেলায় দলীয় প্রতীকে প্রথম ভোট হয়েছিল ২০১৭ সালের মার্চে। তখন তিনটি উপজেলায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়েছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow