Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৪
সিঙ্গাপুরের মতো সহজ হবে আমদানি-রপ্তানি
কাস্টমস ও বন্দরের জটিলতা দূর করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বিশ্বব্যাংকের ইজি অব ডোয়িং বিজনেস বা ব্যবসা সহজীকরণের যে র‌্যাংকিং আছে সেখানে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড এবং ২য় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এই দুটি দেশের র‌্যাংকিং যথাক্রমে ১ ও ২। অন্যদিকে ১৯০টি দেশের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের দিক দিয়ে ১৭৬ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। ব্যবসা-বাণিজ্যের র‌্যাংকিংয়ে এই অবনমন আর দেখতে চাইছে না সরকার। সে উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরকে টার্গেট ধরে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য কাস্টমস ও বন্দরের জটিলতা দূর করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।  গত ২৭ জানুয়ারি ইজি অব ডোয়িং বিজনেসের ‘ট্রেডিং অ্যাক্রোস বর্ডার’ সূচকে কাস্টমস ও বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসায় পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ে গঠিত কমিটির ২য় সভা অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। ওই সভায় আমদানি-রপ্তানির প্রক্রিয়া সহজীকরণের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরকে টার্গেট ধরে প্রচলিত বিধিবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে তা হলো : রপ্তানি ফরম বাতিল করে বিল অব এক্সপোর্ট ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে; আমদানি-রপ্তানিতে ডকুমেন্টের সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিধিবিধানে পরিবর্তন আনবে; বিল অব এন্ট্রি/রপ্তানি দলিলের সংখ্যা কমাতে এসআরও জারি করা; শুল্কভবন ও বন্দরে পূর্ণাঙ্গ ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর জন্য সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক; প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু (স্ক্যানার) করা; আইআরসি/ইআরসি প্রতিবছরের পরিবর্তে ৫ বছর পরপর নবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; জাহাজ বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশের পূর্বে অগ্রিম বিল অব এন্ট্রি দাখিল/সরাসরি বন্দর থেকে পণ্য খালাস ব্যবস্থা চালুকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারি করবে এনবিআর এবং বন্দর কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং বিদ্যমান পণ্য ছাড়করণ বিষয়ে সমস্যাগুলো দূরীকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন।  সভায় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্র্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম জানান, পৃথিবীর অন্যতম দক্ষ বন্দর সিঙ্গাপুরে যদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৫টি দলিলের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায় তাহলে বাংলাদেশেও একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ৫টি দলিলের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর-এর চেয়ারম্যান  মোশাররফ হোসেন র্ভুইয়া জানান, বিল অব এন্ট্রি/এক্সপোর্ট দাখিলের সময় শুল্ক নির্ধারণের জন্য ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, কান্ট্রি অব অরিজিন এ তিনটি দলিলই যথেষ্ট। তিনি এসআরও ১২০/২০০১/শুল্ক পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে দলিলাদি কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, এনবিআর-এর কার্যক্রম নির্ধারিত সময় ২৪ ঘণ্টা এবং ৭ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব যদি সিএন্ডএফ, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট, ট্রেডিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট সময়মতো কাগজপত্র দাখিল করে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, সিঙ্গাপুরের আদলে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের সময় অর্জন করতে হলে বর্তমান ব্যবস্থায় জাহাজ ছাড়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের ইজিএম (এক্সপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট) প্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শুল্ক বিভাগের প্রতিনিধি জানান, এখন পর্যন্ত ইজিএম ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিল করা যায় না। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের ইজিএম প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কীভাবে দলিলের সংখ্যা কমানো যায় সে বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। বিদ্যমান দলিলের সংখ্যা ১৪ থেকে ৭টিতে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। তিনি বলেন,  বন্দরে পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। বিএসটিআই সক্ষমতা অর্জন করেছে। সংস্থাটি যদি বন্দরে ল্যাব স্থাপন করে তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ডকুমেন্ট পাওয়া সম্ভব। এই ডকুমেন্ট পাওয়ার পরও কেউ যদি মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি বায়াররা পাকিস্তান আমলের অনেক বিধি উল্লেখ করে বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে; যদিও সব বিধি বিধানের বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই। সংশ্লিষ্ট সংস্থা যখন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তখন এসব বিধিবিধান বাতিল করে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow