Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৮
ঢাকা ঢেকে পড়েছে ধুলায়
ধুলাবালির কারণে দিনে সূর্যের আলোতেও রাজধানীর অনেক স্থান কুয়াশার মতো ঘোলাটে হয়ে পড়ে
জিন্নাতুন নূর
ঢাকা ঢেকে পড়েছে ধুলায়
রাজধানীতে ধুলার যন্ত্রণা। বিভিন্ন সড়কে চলতে হচ্ছে নাক-মুখ চেপে -জয়ীতা রায়

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ ছিল সর্বোচ্চ মাত্রায় অর্থাৎ বায়ুদূষণের মানদণ্ডে বলা হলে এদিন ঢাকার বায়ু ছিল ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’। এর পরের দিন ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে ঢাকার বায়ু ছিল ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখেও বায়ু ছিল ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখেও বায়ু ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির ছিল। আর ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখেও ঢাকার বায়ু ছিল ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’। ফেব্রুয়ারির ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ঢাকার বায়ুদূষণ ছিল উদ্বেগজনক পর্যায়ের। দেশের বায়ুর মান নির্ধারণে মোট ৬টি ক্যাটাগরির সর্বোচ্চ দুটি খারাপ ক্যাটাগরিই ফেব্রুয়ারির প্রথম পাঁচ দিন ঢাকার বাতাসে বিরাজ করছিল। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্মল বায়ু এবং টেকসই পরিবেশ প্রকল্পের ঢাকা শহরের দৈনিক বায়ু মান সম্পর্কিত তথ্য থেকে এমনটি জানা যায়। আর ঢাকার বায়ুদূষণের অবস্থা যে ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে এটি বোঝানোর জন্য আলাদা করে এত তথ্য উপাত্ত না দিলেও চলে। কারণ ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে বের হলেই বর্তমানে রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ ধূলিদূষণের জন্য নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়ে এখন মাস্ক ব্যবহার করছেন। ধুলাবালির কারণে রাতে তো বটেই দিনে সূর্যের আলোতেও রাজধানীর অনেক স্থান কুয়াশার  মতো ঘোলাটে হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মিরপুর ১২, ১১, ১০ নম্বর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী থেকে ইসিবি চত্বরসহ যেসব এলাকায় মেট্রোরেল ও উড়ালসড়কের অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে সেখানে ভোগান্তি আরও বেশি। সড়কে থাকা যানবাহনের পাশাপাশি গাছের সবুজ পাতাও এখন ধুলাবালিতে তার রং হারিয়েছে। অবস্থা বেশি বেগতিক হওয়ায় উচ্চ আদালত গত ২৮ জানুয়ারি শহরে যারা বায়ুদূষণ সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে দুবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। পরিবেশ অধিদফতর এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে। আদালত বলেছে, রাজধানীর যেসব স্থানে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে সেসব জায়গা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এমনভাবে ঘিরে ফেলতে হবে যাতে শুকনো মৌসুমে ধুলা ছড়িয়ে বায়ুদূষণ বাড়তে না পারে। পাশাপাশি ধুলাবালিপ্রবণ এলাকাগুলোকে দিনে দুবার করে পানি ছিটানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানীর অল্প কিছু এলাকার সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা অনুসরণ করতে দেখা গেছে। কিন্তু কালশী হয়ে ইসিবি চত্বরে আসার পথে যে উড়ালসড়ক তৈরি হচ্ছে এবং মিরপুরে ১১ ও ১২ নম্বরে মেট্রোরেল প্রকল্বের অবকাঠামো নির্মাণের স্থানে এই নির্দেশনা মানতে দেখা যায়নি। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও এসব এলাকা থাকছে ধূলিধূসর। পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যে, বাংলাদেশের বাতাসে পারটিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫) কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, ওজোন, সালফার এবং সালফার ডাই অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক। আর ঢাকার ধূলিদূষণের জন্য পথচারীদের মুখে মাস্ক এবং নারীদের ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, ঢাকার মাত্রাতিরিক্ত ধূলিধূষণের জন্য মানুষের চোখের সমস্যা, এলার্জি, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া একই কারণে ঢাকাবাসী শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুবিক সমস্যাতেও আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে শিশুরা বেশি রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার মধ্যে মিরপুর দারুস সালাম রোড, ফার্মগেট এবং শেরেবাংলা নগরে বায়ুদূষণকারী ক্ষতিকর পদার্থের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি মিলেছে। আর শীতে এই দূষণের মাত্রা বেশি হয়। পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে ঢাকার ধুলাবালি থেকে সৃষ্ট দূষণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে দুই গুণের বেশি। আবার সংশ্লিষ্টরা এও বলছেন, ধুলাবালি থেকে সৃষ্ট দূষণে ঢাকা এখন দিল্লির পথে হাঁটছে। আর বর্তমান অবস্থা থামানো না গেলে ঢাকার অবস্থাও অচিরে দিল্লির মতো হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ধূলিদূষণে দিল্লির পরই ঢাকার অবস্থান। অবস্থার উন্নয়নের জন্য তিনি ঢাকার আশপাশের ইটভাটায় কাঠের পরিবর্তে গ্যাস দিয়ে কয়লা পোড়ানোর পরামর্শ দেন। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী ইট, বালু-সিমেন্ট ইত্যাদি কাজের সময় পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি দূষণ রোধে ঢাকার পুররো লক্কড়-ঝক্কড় যেসব গাড়ি থেকে কাল ধোঁয়া বের হয় সেগুলো তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেন আইনুন নিশাত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow