Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৯

পড়ে আছে চারটি মাথার খুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

পড়ে আছে চারটি মাথার খুলি

পুরান ঢাকার চকবাজারে ব্যবসা করতেন চার বন্ধু। রাত ১০টার পর সবাই একসঙ্গে কিছুটা সময় আড্ডা দিতেন। সেই আড্ডা থেকে নিজ ঘরে ফেরা হলো না নোয়াখালীর চার বন্ধুর। চকবাজারের ভয়াবহ আগুন কেড়ে নিয়েছে তাদের সব গল্প আর স্বপ্ন। চিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে পোড়া চারটি মাথার খুলি। 

নিহতদের বন্ধু আবদুল্লাহ জানান, চকবাজারে পারিবারিক ওষুধের ব্যবসা ছিল মঞ্জুর। চুড়িহাট্টা জামে মসজিদের পাশে হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের উল্টো দিকে ছিল তার ওষুধের দোকান ‘হায়দার মেডিকো’। চকবাজারেই ইমিটেশন গহনার ব্যবসা ছিল বন্ধু হীরার, আনোয়ারের ছিল ব্যাগের আর নাসিরের ছিল প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবসা।

প্রতিদিন কাজ শেষে হায়দার মেডিকোতে এসে বসতেন তারা। একসঙ্গে কিছু সময় গল্প-গুজব করে নিজেদের বাসায় ফিরে যেতেন তারা।

মঞ্জুর ভাই লিটন জানান, বিকালেই ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা হয়। প্রতি রাতে চার বন্ধু মিলে ফার্মেসিতে আড্ডা দিত। বুধবারও তারা আড্ডায় মিলিত হয়। আগুন লাগার পর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাত ৩টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে হায়দার মেডিকোর ভিতরে পাওয়া যায় পোড়া চারটি মাথার খুলি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে লিটন আরও বলেন, তাদের ফার্মেসির সামনেই একটি গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এ সময় আতঙ্কিত লোকজন যখন  ছোটাছুটি শুরু করে। তখন বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে মঞ্জু ও তার তিন বন্ধু দোকানের ভিতর ঢুকে শার্টার লাগিয়ে দেয়। এরপর যখন আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে যায় তখন আর তারা সেখান থেকে বের হতে পারেনি।

আগুনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চারজনের পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কাউকেই পাওয়া যায়নি। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে হায়দার মেডিকো শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে প্রবেশ করে তারা দেখতে পান পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মেঝেতে কেবল পড়ে আছে কিছু পোড়া দেহাবশেষ। যার মধ্যে চারটি মাথার খুলিই কেবল শনাক্ত করা যায়।


আপনার মন্তব্য