Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪০

কৃষি

চলনবিলে হাঁসের খামার

নাসিম উদ্দীন নাসিম

চলনবিলে হাঁসের খামার

বর্ষাকালে বানের পানি এলেই জাল বুনন আর মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত চলনবিলের মানুষের মধ্যে। নানা কারণে এখন আর আগের মতো চলনবিলে মাছ পাওয়া যায় না। তাই এখানকার অনেকই বেকার হয়ে পড়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটছে তাদের দুর্বিষহ জীবন। এর থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে গিয়ে কিছু মানুষ সন্ধান পেয়েছেন বিলে হাঁস পালনের মতো লাভজনক পেশা। সংসারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা। চলনবিলের মানুষদের জীবনধারা বদলে দিয়েছে হাঁসের খামার।

চলনবিলে হাঁস পালনের বড় সুবিধা বিলে পানি থাকা অবধি প্রায় ছয় মাস হাঁসের প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় শামুক, ঝিনুকসহ জলে বাস করা নানান প্রাণী। যা বিশাল জলাভূমির এই চলনবিল থেকেই আসে। এতে হাঁসপালনে খরচ কমে। বাড়ে লাভের পরিমাণ। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বছরের পুরো সময় অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে এসব পরিবারের ছেলেরা। মূলত হাঁসের ডিম বিক্রি করেই মিটছে সংসারের খরচপাতি। চলছে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা। কমছে ঋণের বোঝাও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বা এ ধরনের খামার গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা স্থানীয়দের। নাটোর জেলা প্রাণী স¤পদ অফিসের তথ্য মতে চলনবিলে ছোট বড় ৫ শতাধিক হাঁসের খামার রয়েছে। এর মধ্যে রাজহাঁসের খামার রয়েছে অর্ধেক। চলনবিলের হাঁস পালনকারীরা পাতিহাঁস এবং রাজহাঁস উভয় প্রকারের হাঁস পালন করে মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ করে আয় করে বছরে ১৩৫ কোটি টাকা। বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক হাঁসের প্রধান খাদ্য। আর অল্প টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা সফল হওয়ায় বর্তমানে পুরুষরাই বিকল্প পেশা ও বেকারত্ব দূর করার জন্য অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার অদূরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ অতিক্রম করার পর সরেজমিন দেখা গেছে, স্থানীয় কলম ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের আলেক হোসেন মাঠের মধ্যে হাঁস চরাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার উপার্জনেই সংসার চলে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে তার অস্থায়ী খামারে ৭০০’রও বেশি হাঁস রয়েছে। হাঁসগুলো প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০টি ডিম দেয়। এসব ডিম তিনি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

এসব খামারের হাঁস মূলত বিলের শামুক খেয়ে বেঁচে থাকে। রোগ-বালাইয়ে শুধু মাঝেমধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এত বড় সাফল্য অর্জন সত্ত্বেও সরকারিভাবে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা সদরের কয়েকজন ডিমের আড়তদারের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, প্রতিদিন এ অঞ্চলের অস্থায়ী খামার থেকে তারা কয়েক হাজার ডিম কেনেন এবং তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ জানান, এ উপজেলায় ৮০টি হাঁসের খামার রয়েছে। বছরে ডিম উৎপাদন ১.১৩ কোটি। আমরা অস্থায়ী খামার করে হাঁস পালনে আগ্রহীদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।


আপনার মন্তব্য