Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২০

পেশা ওদের মামলা

মির্জা মেহেদী তমাল

পেশা ওদের মামলা

সবুজ মিয়া ও আসমা বেগম। বয়স ৪০ পেরিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ। আজ ঢাকায়, তো কাল চট্টগ্রামে। কাল চট্টগ্রামে তো দুই দিন পর নতুন কোনো জেলায়। এভাবে মাস বছর কাটে তাদের জেলায় জেলায় ঘুরে। ঘুরে ঘুরে তারা মামলা করেন। কখনো চুরি, আবার কখনো ধর্ষণ মামলা। স্ত্রী আসমা ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন, আর স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন। তাদের টার্গেট নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন পেশা শ্রেণির মানুষ। হোটেল বয় থেকে শুরু করে হোটেল মালিক, বাড়ির দারোয়ান, বাড়ির মালিক। এদের প্রত্যেকেই আসমাকে ধর্ষণ করেন আর বাদী হয়ে মামলা করেন স্বামী সবুজ মিয়া। পাহাড় থেকে সমতলে, সমানতালে মামলা করে যান এই দম্পতি। আসমা কেন শুধু ধর্ষণের শিকার হন! এমন প্রশ্নের জবাবে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরা মামলা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। এই দম্পতি মামলা করাটাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছে।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় এমন হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করতে গিয়ে প্রথমবার ধরা পড়েন। ফাঁস হয়ে যায় তাদের মামলার নেপথ্য কাহিনী। কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, সবুজ মিয়া এবং আসমা  বেগম রীতিমতো ভয়ংকর দম্পতি। জেলায় জেলায় নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করাই তাদের পেশা। কদিন আগের ঘটনা। একদিন বিকালে আসমা এবং তার স্বামী যান কোতয়ালি থানায়। থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন নগরীর লালদীঘি এলাকার একটি হোটেলের বয় আসমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগের সঙ্গে মুখের কথায় গড়মিল খুঁজে পান পুলিশ কর্মকর্তারা। সন্দেহ হয়। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তারা শিকার করেন তাদের ভয়ংকর প্রতারণার কথা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই দম্পতি জানিয়েছেন- তারা এমন ভয়ংকর প্রতারণা করে আসছে সেই ২০০৫ সাল থেকে। তারা প্রথমে মধ্যম মানের হোটেলে যান। সেখানে বাইরে বেরোনের কথা বলে চাবি ম্যানেজারের কাছে দিয়ে যান। এরপর এসেই অভিযোগ করে বসেন, তাদের রুমে নগদ টাকা রাখা ছিল, তা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ মালিকের মধ্যস্থতায় টাকার বিনিময়ে আপস করে ফেলেন। কিন্তু আপসে না আসলে সেই হোটেলের মালিক কিংবা বয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলেন। মামলা করেন থানায় গিয়ে। এরপর আদায় করেন মোটা অঙ্কের টাকা।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, এই দম্পতির প্রতারণামূলক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে ঢাকা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা এবং রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলায়। প্রত্যেক জেলা থেকে মামলা করে প্রত্যেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত ৬ মাস পূর্বে চট্টগ্রামের স্টেশন রোডের একটি হোটেল থেকে একই কায়দায় ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এক জেলায় বেশি মামলা করলে সন্দেহ হতে পারে, তাই তারা এক জেলায় বেশি দিন থাকেন না। চট্টগ্রামেও বেশি দিন থাকার পরিকল্পনা ছিল না। দু-একটি মামলা করেই অন্য জেলায় সটকে পড়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। প্রতারণার অভিযোগে এই দম্পতিকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ। সমাজ বিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘মূল্যবোধ ক্রমেই কমতে থাকায় মানুষ পবিত্র সম্পর্ককে নষ্ট করে জড়িয়ে পড়ছে সামাজিক অপরাধে। যেসব স্বামী-স্ত্রী অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের সন্তানরাও স্বাভাবিকভাবে অপরাধপ্রবণ মানসিকতা ধারণ করবে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তার মারাত্মক রূপ দেখবে সমাজ।

 


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর