Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৬ ০৮:২১
আপডেট :
রেডিওতে চমৎকার ক্যারিয়ার
শামছুল হক রাসেল
রেডিওতে চমৎকার ক্যারিয়ার

বছর দশেক আগেও বাবা-মা স্বপ্ন দেখতেন ছেলে-মেয়েকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংক অফিসার বা শিক্ষক বানানোর। খুব বেশি ব্যতিক্রম হলে সন্তানদের পাইলট তৈরি করার স্বপ্ন দেখতেন। আজ যুগ বদলেছে, সময়ের হাত ধরে প্রজন্মের গতি বেড়েছে কয়েকগুণ। আজকাল বাবা-মা চান যান্ত্রিক জীবন নয়, ছেলেমেয়ে বেছে নিক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন। তাই ছেলেমেয়েরা ক্যারিয়ার গড়ুক সেইখানে, যেখানে সে পাবে পরিচিতি, সম্মান, সম্মানী সবই। ক্রমপ্রসারিত এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার গড়ার পেছনে তাই বাবা-মার উৎসাহ থাকে অনেক বেশি। বর্তমানে রেডিওর যুগ ফিরে আসায় বাবা-মার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সন্তানকে রেডিওনির্ভর ক্যারিয়ার গড়ার।

রেডিওতে ক্যারিয়ার: অনেকেই ভাবেন, রেডিও তো সারা দিন বকবক শোনার মেশিন। এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার! অনেকেই হয়তো জানেন না রেডিওকে ঘিরে হতে পারে ক্যারিয়ারের চমৎকার প্লাটফর্ম। একটি রেডিও স্টেশন চালাতে প্রয়োজন আরজে, প্রোগ্রাম প্রডিউসার, অফিস এক্সিকউটিভ, প্রোগ্রাম প্ল্যানার, টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার এঙ্পার্ট, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিউজ রিপোর্টার, নিউজ প্রেজেন্টার, আউট ব্রডকাস্টারসহ নানা সহায়ক ব্যক্তি বা কর্মীবাহিনী। বিভিন্নভাবে রেডিওতে ক্যারিয়ার গড়ার পন্থা রয়েছে, যা ভবিষ্যৎকে ত্বরান্বিত করে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম-

আরজে বা রেডিও জকি : তরুণদের জন্য এখন রেডিও জকি বা আরজে হওয়াটা ক্রেজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেডিওগুলোর গান, নাটক ও সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আরজে বা রেডিও জকিদের কণ্ঠস্বর শুনে শুনে নিজের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য অনেক তরুণ-তরুণী ব্যাকুল এখন। আরজে হওয়ার জন্য চাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলতে পারার গুণ। কথার পিঠে কথা সাজিয়ে বলাই এখানকার শিল্প। এ শিল্পকে যে ফোটাতে পারবে সেই হতে পারবে খ্যাতনামা আরজে। সেই সঙ্গে চাই সুন্দর বাচনভঙ্গি। কথা বলায় স্বতঃস্ফূর্তভাব আনার জন্য আবৃত্তি কর্মশালা, বিতর্ক-চর্চা করা যেতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে ভালো হয় যদি বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া যায়। কারণ জকিরা তো এক ধরনের আড্ডাই দেন শ্রোতাদের সঙ্গে। মনের ইচ্ছা আর এসব গুণ থাকলে দৃঢ়চেতনার সঙ্গে চলে যান যে কোনো রেডিও স্টেশনে জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে।

আউট ব্রডকাস্টার বা ওবি : তরুণরা এখন আরজে হওয়ার পাশাপাশি আউট ব্রডকাস্টার হিসেবে কাজ করতে পারেন। আউট ব্রডকাস্টাররা আসলে রিপোর্টারেরই অন্য একটি রূপ। বিভিন্ন প্রোগ্রামে সরাসরি উপস্থিত হয়ে মোবাইলের মাধ্যমে স্টুডিওতে খবর পাঠান তারা। এছাড়া ওবিরা ট্রাফিক আপডেট থেকে শুরু করে বাজারদরটিও জানিয়ে দেন শ্রোতাদের। তাই একটু চটপটে ভাব আছে যাদের, তারা নির্দ্বিধায় ওবি হিসেবে কাজ করতে পারেন। এজন্য চাই সেই স্বতঃস্ফূর্তভাব।

নিউজ রিপোর্টার : যখন পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ নেই অথবা স্যাটেলাইটের কানেকশন নেই তখন আপনি হয়তো হতাশ হতে পারেন। এখন সেই হতাশা কাটিয়ে দেয় রেডিওর সংবাদ। রেডিওর সংবাদের প্রাণ হয়ে আছে তরুণ কিছু সাংবাদিক। আপনার যদি মনে সেই আগুন থাকে তবে আপনি হতে পারেন রেডিওর রিপোর্টার।

সেজন্য যে সাংবাদিকতাতেই পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনার যদি বিবেক থাকে, খবরকে বিশ্লেষণ করার বুদ্ধি থাকে তবে বেছে নিতে পারেন এই পেশা।

সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার : গানে সময় কতটুকু হবে, বিজ্ঞান কতটুকু সময় প্রচার করা হবে, আরজের উপস্থাপনা, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক- সব মিলিয়ে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারকে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয় প্রতি পদে পদে। একটু সাহসী ও অধ্যবসায়ী হলে এ পদে দ্রুত পদোন্নতি পাওয়া যায়। এছাড়া এ সেক্টরকে ঘিরে আরও বেশ কয়েকটি চাহিদা পদ রয়েছে।

সুতরাং এসব পেশায়ও চমৎকার ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ২৭ জুন, ২০১৬/ আফরোজ

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow