Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ৪ মার্চ, ২০১৭ ২২:৫০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
মুখরোচক পপকর্নের অজানা কথা
অনলাইন ডেস্ক
মুখরোচক পপকর্নের অজানা কথা

চলতে পথে প্রায়ই দেখা মিলে একটি স্ট্রিট ফুডের। ইদানীং বেশ জনপ্রিয়ও এ মুখরোচক খাবারটি।

নাম ‌পপকর্ন। আর রাজধানী ঢাকার রাস্তায় হকারের কাছে শুনে থাকবেন এর নাম বাপ্পন বা পাপ্পন। তবে সুস্বাদু ও লোভনীয় এ খাবারটির জুড়ি নেই গাড়িতে বা পার্কে পপকর্ন সময় কাটানোর একটি ভাল সঙ্গী। দিনে দিনে বাড়ছে এর গ্রাহকও। স্ট্রিট ফুড হলেও এর রয়েছে বেশ কিছু উপকারীতাও।

ভুট্টার শস্য দানা থেকে পপকর্ন প্রস্তুত হয়। খুব সহজেই এটি তৈরি করা যায়। ভুট্টার প্রতিটি দানার নিজস্ব আর্দ্রতা থাকে। শস্য দানাতে তাপ দিলে সেই পানি বাষ্পে পরিণত হতে থাকে।

ভুট্টার দানাগুলোর খোসা পানি ভেদ্য হয়। তাই যখন ভুট্টার দানাগুলোর ওপর তাপ লাগে তখন ভেতরের পানি বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে এবং খোসায় চাপ সৃষ্টি হয়। একসময় খোসাটি ফুটে যায়। ফুটার সময় ‘পপ’ করে এক ধরনের শব্দ হয় বলে খাদ্যটির নামকরণ হয়েছে পপকর্ন। সাধারনত ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ১৭৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ভুট্টার দানা 'পপ' শব্দ করে।

পপকর্ন নিয়ে অজানা কিছু মজার তথ্য-

১. প্রায় ৯ হাজার বছর আগে মেক্সিকোতে ভুট্টার চাষ এক প্রকার জংলি ঘাস থেকে আবিষ্কৃত হয় এবং প্রায় ৫ হাজার বছর আগে পপকর্ন-এর প্রচলন হয়।  

২. ১৮৪৮ সালে প্রথম 'popped corn' শব্দটি 'Dictionary Of Americanism'-এ স্থান পায়। তার আগ পর্যন্ত পপকর্ন 'pearls' বা 'nonpareil' নামে পরিচিত ছিল।

৩. আমরা যে পপকর্ন খাই, সেই ভুট্টার বৈজ্ঞানিক নাম Zea mays everta। শুধু মাত্র এই প্রজাতির ভুট্টার শস্য ফুটে উঠে বা পপ করে। একটি ভুট্টার শস্য পপ করার সময় বাতাসে তিন ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে।

৪. ১৮৯৩ সালে চার্লস ক্রেটরস (Charles Cretors) প্রথম পপকর্ন তৈরির যন্ত্র আবিষ্কার করে।

৫. যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রদেশ Illinois (ইলিনয়েস)-এর জাতীয় জলখাবার হল পপকর্ন। ১৯৫৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৯ জানুয়ারি দিনটিকে তারা জাতীয় পপকর্ন ডে হিসাবে পালন করে। ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আদিবাসীরা পপকর্ন নানা ধরণের শুকনা মসলা দিয়ে মাখিয়ে খায়। এমনকি তারা পপকর্নের স্যুপ তৈরি করে খায়।

৬. ভুট্টার শস্যে অন্য যে কোনো শস্য দানার চেয়ে বেশি প্রোটিন রয়েছে। একটি ডিম এর চেয়ে বেশি আয়রন ও আলুর চিপস এর চেয়ে বেশি আঁশ রয়েছে।

৭. ভুট্টা যদি কখনো ফ্রিজে রাখা হয়, তবে সেই ভুট্টার শস্য কখনো ফুটবে না। ফ্রিজে রাখার কারনে ভুট্টা শস্যের আর্দ্রতা কমে যায়।  প্রাচীন কালে মানুষ বালি গরম করে সেখানে ভুট্টার শস্য ফুটিয়ে পপকর্ন তৈরি করতো।

৮. এক কাপ ভুট্টার শস্যদানা ফুটে প্রায় ১ হাজার ৬শটি পপকর্ন হয়। সমগ্র পৃথিবীর মানুষের মধ্যে অ্যামেরিকানরা সবচেয়ে বেশি পপকর্ন খায়।


সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা ও উইকিপিডিয়া।

 

 


বিডি-প্রতিদিন/ ৪ মার্চ, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-২৫

আপনার মন্তব্য

up-arrow