Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৮:২৫
ফুটন্ত পানিতে ফেলে মানুষ হত্যা করতেন যে একনায়ক
অনলাইন ডেস্ক
ফুটন্ত পানিতে ফেলে মানুষ হত্যা করতেন যে একনায়ক

এতিমখানায় বেড়ে ওঠা ছেলেটি একদিন হয়ে যায় রাষ্ট্রপতি। তার নাম ইসলাম করিমভ। প্রায় ২৫ বছর উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে কাটানো এই রাষ্ট্রপ্রধানের শাসনও ছিল 'বিস্ময়কর'। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিপীড়নের মুখে প্রতিপক্ষ তো দূরে থাক নিজের উত্তরসূরি রেখে যেতে পারেননি এই কমিউনিস্ট নেতা।

গত শুক্রবার ৭৮ বছর বয়সী এই একনায়কের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে উজবেক সরকার। গত সপ্তাহে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু করিমভ ঠিক কখন মারা গেছেন সেই খবর জানানো হয়নি।

১৯৯১ সালে মস্কো থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই উজবেকিস্তান ছিল করিমভের কব্জায়। অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের সুবাদে ১৯৮৯ সালেই দেশটির নেতা হন এই একনায়ক। সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনে ৯০ ভাগ ভোট নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন করিমভ। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিবেচনায়, দেশটিতে কখনও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। তার মৃত্যুতে ক্ষমতার একক কোনো উত্তরসূরিও নেই।

আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী দেশটিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বর্বর কায়দায় দমনের কুখ্যাতি রয়েছে। ২০০৫ সালে কয়েকশ' বিক্ষোভকারীকে নির্মমভাবে হত্যা করে সরকারি বাহিনী। নিপীড়নের ভয়াবহতায় নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙতেন করিমভ। তিনি দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফুটন্ত পানিতে ফেলে সিদ্ধ করে মেরেছেন বলে জানান দেশটিতে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্রেইগ মারি। এমনকি করিমভের নিপীড়ন থেকে রক্ষা পায়নি তার সম্ভাব্য উত্তসূরি বড় মেয়ে গুলনারা। টুইটারে সরকারের সমালোচনা করায় তাকে ২০১৪ সাল থেকে গৃহবন্দি করে রেখেছে করিমভ সরকার।

মা এবং ছোট বোনের কড়া সমালোচক গুলনারা তার বাবা করিমভকে স্ট্যালিনের সঙ্গে তুলনা করেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার খায়েশ মনে পোষণ করায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতাশালী প্রধানকেও তীর্যক ভাষায় আক্রমণ করেন গুলনারা।

করিমভের মৃত্যুর পর যারা উজবেকিস্তানের শাসক হিসেবে সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী শাভকাত মিরজিইয়োয়েভ, উপ প্রধানমন্ত্রী রুস্তম আজিমভ ও কামোলিদ্দিন রাব্বিমভ।

করিমভ বেড়ে ওঠেন প্রাচীন সমরখন্দ শহরের একটি এতিমখানায়। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেন। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের সুবাদে ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত উজবেকিস্তানের নেতা হন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে করিমভ ১৯৬৭ সালে তাজিক-রুশ বংশোদ্ভূত তাতিয়ানা আকবারোভনা করিমোভাকে বিয়ে করেন। তাতিয়ানা একজন অর্থনীতিবিদ। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছেন। ছোট মেয়ে ললা করিমোভা। ইন্টারনেট থেকে।  


বিডি-প্রতিদিন/ ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow