Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:৩৮
আমার কাউকে অন্য কারো সঙ্গে দেখলে গা জ্বলে
অনলাইন ডেস্ক
আমার কাউকে অন্য কারো সঙ্গে দেখলে গা জ্বলে

আমি নিশ্চয় মারাত্মক অনালোকিত একজন মানুষ। কারণ আমি ঈর্ষাপরায়ণ, সংকীর্ণ এবং আলফা ধরনের মানুষ।

আমার স্বামী অ্যালেক্স এবং আমি গত পাঁচ বছর ধরে একসঙ্গে আছি। আর আমাদের ছেলেবন্ধু জন গত দুই বছর ধরে আমাদের সঙ্গে থাকেন।
বেশিরভাগ সময়ই আমরা সুখি থাকি। অন্য আর যে কোনো সম্পর্কের মতোই আমাদের সম্পর্কেও উত্থান-পতন আছে। কোনো কোনো দিন আমরা পাগলের মতো পরস্পরকে ভালোবাসি। অন্যান্য দিন আমার একাকি বসে শুধু টেলিভিশন দেখি, বিল প্রদান করি এবং স্বাভাবিক জীবন-যাপন করি।
আমাদের সম্পর্কের ধরনের কারণেই আমরা প্রচুর লোকের সঙ্গে যৌনতায় এবং আবেগগতভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সুযোগ পাই। আমরা পরস্পরের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করি। এবং পরস্পরকে আঘাত না করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এতে অনেক সময় আমার সফল হই। অনেক সময় আবার ব্যর্থ হই।
তবে এখনো আমি আমার দু'জন পুরুষের কোনো একজনকে অন্য কারো সঙ্গে দেখলে আমার গা জ্বালা করে। আমি ফেসবুকে তাদের ভালোবাসার জনদের ওপর নজরদারি করি। অ্যালেক্স এবং জন ঘর ছেড়ে বের হওয়ার পর আমি তাদের ওপরও নজরদারি করি। তাদের ফোন চেক করি।
আমাদের তিনজনের সাক্ষাত হয় সমকামিদের ডেটিং অ্যাপ স্ক্রাফে। আমার স্বামী অ্যালেক্স এবং আমার একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট আছে। ফলে আমরা যৌথভাবে অন্য যাদের ব্যাপারে আগ্রহী তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি। জনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময় আমরা শুধু একরাত একসঙ্গে কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জনের মধ্যে আমরা নিজেদের একটি মিলনবিন্দু আবিষ্কার করি। আমরা তার মধ্যে নিজেদের মুখচ্ছবি দেখতে পাই। তার মধ্যদিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে একটি যোগাযোগ গড়ে তোলার রাস্তা পাই।
জনকে আমরা আমাদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের ছেলে বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিই। ওদিকে স্বামী অ্যালেক্সকে জনের প্রেমে পড়তে দেখে আমি এক বিস্ময়কর নিপীড়ন অনুভব করি। এটা খুবই সুন্দর ছিল।
আমি এবং অ্যালেক্স যখন প্রথমবার জনের সঙ্গে ডেটিং শুরু করি তখন আমি প্রায়ই ঝড়ের বেগে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতাম। বেডরুমের দরজাটিকে সজোরে ধাক্কা মেরে তীব্র আওয়াজ করতাম। এরপর আমি অপেক্ষা করতাম তাদের কেউ একজন আমাকে এসে অন্তত জিজ্ঞেস করুক কী সমস্যা। আমি জনকে গত দুই বছরে চারবার বাড়ি থেকে লাথি মেরে বের করে দিয়েছিলাম। অ্যালেক্সকেও ঠিক ততবারই তালাকের হুমকি দিয়েছি।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন এটা করছি? আমরা কেন আমাদেরকে এমন ধরনের বেদনা, বিশৃঙ্খলা এবং নাটকীয়তায় জড়ালাম?
আমি সবসময়ই একগামিতায় বিশ্বাসি ছিলাম। একজন পুরুষ আমাকে এবং শুধু আমাকেই ভালোবাসবে। আমার জন্য তার সবকিছু বিসর্জন দেবে। আমাকে এবং শুধু আমকেই কামনা করবে। আমি সবসময়ই কেউ একজন শুধু আমার জন্যই একগামি হবে এই ধারণা ভালোবাসতাম। কিন্তু বিনিময়ে আমি নিজেও তার প্রতি একগামি হব তা অবশ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করে ভাবতে পারতাম না।
সুতরাং আমাদের সম্পর্ককে উম্মুক্ত করে এবং আরো ভালোবাসার মানুষকে নিজেদের জীবনে যুক্ত করার মাধ্যমে আমি এবং অ্যালেক্স আমাদের নিজেদের ব্যক্তিগত রোমঞ্চকর যাত্রা অব্যাহত রাখি। এর মধ্য দিয়ে ঈর্ষাকে কীভাবে অতিক্রম করতে হয় তাও শিখি আমরা।
প্রথমবার যখন আমি অ্যালেক্সকে নতুন একজনের সঙ্গে ডেটিংয়ের কথা বলি আমাদের সম্পর্ক প্রায় ভেঙ্গে যাচ্ছিল। আবার অ্যালেক্স যখন সিয়াটলে নতুন একজনের সঙ্গে প্রেমে পড়ার কথা বলেছিল তখন আমার অনুভূতি হচ্ছিল, আমার পৃথিবীটা বুঝি দু টুকরো হয়ে যাবে।
তবে অবশ্যই আমার পৃথিবী দু টুকরো হয়ে পড়েনি। বরং আমাকে নিজের অনুভূতিগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছে। অ্যালেক্স বা জন নয় বরং নিজেরই মুখোমুখি হতে হয়েছিল আমাকে। নিজের ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিগুলো নিয়ে আমাকে একাকি সময় ব্যয় করতে হয়েছে। ইর্ষার সবই হলো মূলত: ভয়। পরিত্যক্ত হওয়ার ভয়। যথেষ্ট না হওয়ার ভয়। একা হয়ে পড়ার ভয়।
আর আমরা যেসব বিষয়ে ভয় পাই তার সবই হয়তো ঘটতে পারে। অ্যালেক্স হয়তো আমার চেয়ে তার নতুন বন্ধুকেই বেশি ভালোবাসার সিদ্ধান্ত নিতে পারত। জন হয়তো মেক্সিকোতে তার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে উধাও হয়ে যেতে পারে। আমি আজ, কাল বা পরের বছর কতটা ঈর্ষাবোধ করি তার ওপর নির্ভর করা ছাড়াই এ বিষয়গুলো ঘটতে পারে। সম্পর্কগুলোকে যতই স্থিতিশীল মনে হোকনা কেন সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো ভাঙ্গবেই।
তবে অন্তত জন, অ্যালেক্স এবং আমি পরস্পরের প্রতি সততা বজায় রাখি। আমি তাদের সঙ্গে আমার ভয় ও আনন্দগুলো ভাগাভাগি করি। আমি তাদের বিপদে আপদে পাশে থাকি। তারাও একইভাবে আমার পাশে থাকে। আমি তাদের সঙ্গে আরো গভীর প্রেমে পড়ি, আমরা সকলেই পড়ি।
আমি বুঝতে শিখেছি, ভালোবাসা সীমাহীন এবং ব্যাপক। আমি নিজের মধ্যে ভালোবাসাকে যত বেশি প্রবেশ করতে দেব ততই তা বেড়ে চলবে। আমিও ততই ভালোবাসতে এবং ভালোবাসা পেতে সক্ষম হব।
আর যখনই ইর্ষার অনুভূতি হয় আমি একটু থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করি: আমি কীসের ভয়ে ঈর্ষান্বিত? আমি নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেই আমি কতটা ভাগ্যবান। কতটা ভালোবাসা প্রাপ্ত।
আপনি নিজের জীবনে যত বেশি লোককে ভালোবাসায় যুক্ত করবেন ততই নাটকীয়তা এবং বিশৃঙ্খলা হবে। ত্রিমুখি যৌনতাও বিস্ময়কর। ত্রিমুখি ঝগড়াও চমৎকার। পলিঅ্যামোরাস জীবন-যাপনে প্রচুর চলন্ত অংশ আছে। আর অনেক সময় তা অপ্রতিরোধ্য এবং নিয়ন্ত্রণের অযোগ্যও মনে হতে পারে।

বিডি-প্রতিদিন/ ১৫ অক্টোবর, ২০১৬/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow