Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:১০
ব্যাটারিতে আগুন লাগে যেভাবে
অনলাইন ডেস্ক
ব্যাটারিতে আগুন লাগে যেভাবে

বর্তমানে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ইলেক্ট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ জনপ্রিয়। শুধু মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ আর ক্যামেরাই নয়, অনেক ইলেক্ট্রিক বাইক এবং গাড়িতেও এখন রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো অত্যন্ত হালকা, তবে অনেক শক্তি জমা রাখতে পারে। একইসঙ্গে এগুলোতে লিড বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থ নেই, যা অন্য অনেক ব্যাটারিতে থাকে।

আর সেগুলো সচরাচর মাত্রাতিরিক্ত গরম হয় না কিংবা বিস্ফোরিতও হয় না। এমনকি স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট সেভেন স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে প্রতি দশ হাজার ফোনের মাত্র একটিতে আগুন লাগার শঙ্কা রয়েছে। স্যামসাং অবশ্য জানায়নি ঠিক কতটি ফোনের ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে পঁচিশ লাখ ফোন বিক্রির কথা জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাটারির সাইজ ছোট করার পাশাপাশি এটির ক্ষমতা মাত্রাতিরিক্ত বাড়ানোর কারণে এই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ডেভেলপাররা অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়েছেন। তবে স্যামসাংই প্রথম কোম্পানি নয় যেটি ব্যাটারি নিয়ে এমন সমস্যায় পড়েছে। ২০১৩ সালে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার লিথিয়াম ব্যাটারি বেশি গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

এমনকি একটির ব্যাটারিতে আগুন লাগার পর সেই সিরিজের সব বিমানের ওড়া সমস্যা সমাধানের আগ অবধি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ২০১৫ সালে ‘সোলার ইমপালস - ২,' যেটি পুরোপুরি সৌরশক্তিতে চলে, সেটিকে নয় মাস হাওয়াইতে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছিল ব্যাটারির সমস্যার কারণে।

স্যামসাংয়ের ইঞ্জিনিয়াররা গ্যালাক্সি নোট সেভেনে ৩৫০০ মিলিয়াম পার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি যোগ করে। উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বী ফোনগুলোর ব্যাটারি ক্ষমতার চেয়ে গ্যালাক্সি সেভেনের ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়ার। অ্যাপল আইফোন সেভেনের ব্যাটারির ক্ষমতা ১৯৬০ মিলিয়াম পার আওয়ার, আর আইফোন সেভেন প্লাসের ২৯০০ মিলিয়াম পার আওয়ার।

ব্যাটারির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফোনকে আরো স্লিম করা এবং ব্যাটারি চার্জ করার সময় আরো কমানোর দিকে গুরুত্ব দেন স্যামসাংয়ের ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু সেটা ব্যাটারি তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। ব্যাটারির মধ্যে শর্ট সার্কিট রোধে দুটি উপাদানকে আলাদা করতে প্লাস্টিকের পাত ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এই পাত খুব সহজেই ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। যেমন ফোনটি যদি হাত থেকে পড়ে যায় তাহলে প্লাস্টিকের পাতটির ক্ষতি হতে পারে। আর ব্যাটারি দ্রুত চার্জ করার সম্ভাবনা তৈরি করতে গিয়ে এর ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় সেটিকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। ফলে দেখা গেছে, ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সময় ত্রিশ ডিগ্রি পর্যন্ত গরম হয়। তখন ফোনটি রোদের মধ্যে থাকলে বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

বিডি প্রতিদিন/ ১৫ অক্টোবর ২০১৬/ এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow