Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০২:০৪ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৬:৫৯
দ্রুত হারে গলছে অ্যান্টার্কটিকার বরফ!
অনলাইন ডেস্ক
দ্রুত হারে গলছে অ্যান্টার্কটিকার বরফ!

অ্যান্টার্কটিকায় জমাট বরফ-সাম্রাজ্যে ফাটল ধরেছে অনেক আগেই। সেই ফাটল বাড়ছে অতি দ্রুত! বাড়ছে ফাটলের গভীরতা! এই নিয়ে বিজ্ঞানীরা তো রীতিমতো চিন্তায় পড়ে আছেন। অসম্ভব দ্রুত হারে গলছে অ্যান্টার্কটিকার বরফ। হিমবাহ। থাকে থাকে সাজানো পুরু বরফের চাদরে মোড়া অ্যান্টার্কটিকা। সেই অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে পুরু বরফের চাদর লারসেন সি আইস শেল্ফ। সেই চাদরেই ফাটল ধরেছে ১০০ মাইল দীর্ঘ এলাকা জুড়ে। জানুয়ারির প্রথম দুসপ্তাহেই সেই ফাটল আরও ৬ মাইল বেড়ে গেছে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে এই ফাটল বাড়ে ১১ মাইল। মানে এক মাসেরও কম সময়ে অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে পুরু বরফের চাদরে ফাটল বেড়েছে কম করে ১৭ মাইল।

অ্যান্টার্কটিকায় ফাটল ধরা মানেই সেই ফাটলের ফাঁক গলে ঢুকতে থাকবে সূর্যালোক। ঢুকবে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড। ফলে জমাট বরফ এবার গলতে শুরু করবে। অ্যান্টার্কটিকার জমাটবাঁধা বরফ-সাম্রাজ্য ভরে যাবে থইথই পানিতে। আর তা অ্যান্টার্কটিকার ভূগোলে ঘটিয়ে দেবে এক বড়সড় পালাবদল। পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর পানিস্তর কম করে আরও ৪ ইঞ্চি ওপরে তুলে দেবে। যার ফলে ওই মহাসাগরগুলোর সংলগ্ন বহু এলাকা, বহু দেশ অদূর ভবিষ্যতে চলে যেতে পারে গভীর পানির তলায়।  

সম্প্রতি সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় অ্যান্টার্কটিকায় বরফ-সাম্রাজ্যে অপ্রকাশিত গতিতে ফাটল বেড়ে চলার তথ্যটি প্রমাণিত হয়েছে। গবেষকরা অ্যান্টার্কটিকার বরফ-সাম্রাজ্যে বড়সড় ফাটল ধরার তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেন মহাকাশে পাঠানো নাসার বিভিন্ন উপগ্রহের মাধ্যমে। গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, মহাসাগরগুলির পানিস্তরের সমান্তরালেই রয়েছে অ্যান্টার্কটিকার ওই সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে পুরু বরফের চাদর লারসেন সি আইস শেল্ফ। তবে সৌভাগ্যের কথা একটাই, ফাটল ধরায় ওই বরফ গললেও মহাসাগরগুলিতে এখনই সেই পানি মেশার সম্ভাবনা কিছুটা কম। কারণ ওই লারসেন সি আইস সেল্ফের সামনেই রয়েছে ১২ মাইল লম্বা একটা শক্তপোক্ত বরফের প্লেট। সেই প্লেটটাই লারসেন সি আইস শেল্ফের বরফগলা পানিকে মহাসাগরগুলিতে মিশতে দিচ্ছে না। তাই বিপদটা হয়ত এখনই নেই। কিন্তু ১২ মাইল লম্বা প্লেটটাও যদি অদূর ভবিষ্যতে গলতে শুরু করে দেয়, তা হলে মহাসাগরগুলির পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠে গিয়ে বহু এলাকা আর বেশ কয়েকটি দেশকে ভাসিয়ে দেবে। সূত্র: জিটুয়েন্টিফোর।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার

আপনার মন্তব্য

up-arrow