Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:০০
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:২৮

অর্থের বিনিময়ে বাচ্চা পাওয়ার অপেক্ষায় নিঃসন্তান দম্পতিরা!

অনলাইন ডেস্ক

অর্থের বিনিময়ে বাচ্চা পাওয়ার অপেক্ষায় নিঃসন্তান দম্পতিরা!

ভারতের জলপাইগুড়ির শিশু পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে এ রকমই বেশ কয়েকটি দম্পতির সন্ধান পেয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা৷ হোমের আধিকারিকরা গ্রেফতার হতেই ওই সব দম্পতির মধ্যে বেশ কয়েকজন যোগাযোগ করেছেন সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে। সিআইডি-র এক আধিকারিকের কথায়, এরা প্রায় প্রত্যেকেই শিলিগুড়ির বাসিন্দা। এই দম্পতিদের কেউ এক লাখ, আবার কেউবা ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন এই চন্দনা চক্রবর্তীদের। শর্ত ছিল, বাচ্চা হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা এরা মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরে যাওয়াতে এরা এখন এগিয়ে এসেছেন৷ জানতে চাইছেন তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার কোন আশা আছে কি না।

এর আগে উত্তর ২৪ পরগণার বাদুরিয়া থেকে শিশু পাচারকারীদের দলটিকে ধরার পর সিআইডি বেশ কিছু পরিবারের সন্ধান পেয়েছিল যারা ওই দলটির কাছ থেকে শিশু কিনেছিল বা তাদের হাতে পড়ে সন্তান খুইয়েছিল। সেক্ষেত্রে এটি সিআইডি-র কাছে একটি নতুন অভিজ্ঞতাই বটে। জলপাইগুড়ির ওই হোমটি থেকে গত ১৫ বছর ধরে অসংখ্য শিশু পাচার হয়েছে৷ হোম কর্তৃপক্ষ কখনো হাতে হাতে টাকা নিয়েছে, কখনো আবার ক্রেতাকে বলেছে ব্যাংকে জমা করে দিতে। শিশু বিক্রির বহু টাকা এরা দেখিয়েছে ডোনেশন বা চাঁদা হিসেবে৷

সিআইডি-র এক আধিকারিকের কথায়, খরিদ্দারদের এরা দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছিল৷ বিদেশের ক্ষেত্রে এরা খরিদ্দারদের বলত বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা ভাগ ভাগ করে পাঠিয়ে দিতে৷ এটা করার পিছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল যাতে একবারে কোনও অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে বেশি টাকা জমা না পড়ে৷ সেক্ষেত্রে ব্যংক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হতে পারে৷ কিন্তু দেশের মধ্যে এরা খরিদ্দারদের উৎসাহিত করত নগদ টাকা জমা দেওয়ার জন্য৷ কারণ তাতে হ্যাপা কম৷ এই নগদ টাকা জমা দেওয়ার পর এরা খরিদ্দারদের বলত অপেক্ষা করতে৷ বাচ্চা জোগাড় করার পর এরা খবর দিয়ে দিত ওই দম্পতিদের। এরকম বেশ কয়েকটি দম্পতির সন্ধান পেয়েছি আমরা, যারা টাকা দিয়ে বাচ্চা পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছিল।

এদেরকে জেরা করে আমরা জানার চেষ্টা করছি, এরা সরাসরি হোমের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, না অন্য কারও মাধ্যমে এখানে এসেছিল৷ অর্থাৎ, কোনও দালালচক্র এখানে সক্রিয় ছিল কি না, সেটাও আমরা খোঁজ নিচ্ছি৷ চন্দনা চক্রবর্তীর যে ল্যাপটপটি বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি আধিকারিকরা, সেখান থেকে তাঁরা শিশু দত্তক দেওয়ার বেশ কয়েকটি জাল সার্টিফিকেট উদ্ধার করেছেন৷ ধরা না পড়লে এই সার্টিফিকেটগুলো কাজে লাগিয়েই অভিযুক্তরা আগামীদিনে শিশুদের দত্তক দিত৷ এক সিআইডি আধিকারিকদের বলেন, এই সার্টিফিকেটগুলি এতটাই সুনিপুণভাবে তৈরি যে চট করে তা জাল কি না বোঝা যাবে না।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য