Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:১৪ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৫৩
ওয়াশিং মেশিনে পড়ে মৃত্যু হল দুই শিশুর
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
ওয়াশিং মেশিনে পড়ে মৃত্যু হল দুই শিশুর
প্রতীকী ছবি

বাসায় ছোট বাচ্চা এবং ওয়াশিং মেশিন আছে? তবে খুব সাবধান! সবসময় বাচ্চার দিকে নজর রাখুন একটু অসতর্ক হলেই বিপদের হাতছানি। যেমনটা হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লির রোহিনী এলাকায়।

চলন্ত ওয়াশিং মেশিনে মাথা ঢুকিয়ে ফেলায় মৃত্যু হর ৩ বছরের দুই যমজ শিশুর।

শনিবার বিকালে বাথরুমে ওয়াশিং মেশিনে জামা-কাপড় ধুতে দিয়েছিলেন ওই শিশু দুইটির মা রাখি। হঠাৎই খেয়াল করেন তাতে ডিটারজেন্ট পাউডার দিতে ভুলে গেছেন। এরপর বাচ্চা দুইটিকে সেখানে বসিয়ে রেখেই ডিটারজেন্ট পাউডার কিনতে পাড়ার দোকানে যান তিনি। কিন্তু বাসায় ফিরে এসে বাচ্চাদের আর জীবন্ত ফিরে পাননি মা। তার অনুপস্থিতিতেই ওই জমজ বাচ্চা দুইটি ওয়াশিং মেশিনের ভিতর পড়ে যায় এবং সেখানেই ওয়াশিং মেশিনের মধ্যে থাকা প্রায় ১৫ লিটার পানির মধ্যে পড়ে মৃত্যু হয় তাদের। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর ‘ডিটারজেন্ট পাউডার কিনতে ‘অবন্তিকা’ আবাসনের একতলার ফ্ল্যাট থেকে নিচে নেমে পাশেই একটি দোকানে যান রাখি।

তখন ওয়াশিং মেশিনের সামনেই খেলছিল দুই ভাই নক্ষ্য এবং নিশান্ত। সেসময় বাড়িতে আর কেউই ছিল না, পাঁচ মিনিট পরে মা বাসায় ফিরে এসে সন্তানদের দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে যান সেখানেও তাদের দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীদের বাসাতেও খোঁজ করেন রাখি। প্রায় বিশ মিনিট পর দুপুর একটা ১০ মিনিট নাগাদ পুলিশকে ফোন করা হয়। সন্তানদের নিখোঁজের খবর পেয়ে তাদের বাবা রবীন্দরও অফিস থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং সন্তানদের খোঁজ শুরু করেন। অনেক পরে ওয়াশিং মেশিনের পানির মধ্যে থেকে দুই ছেলের লাশ দেখতে পান বাবা রবিন্দর। এরপরই লাশ দুইটিকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনার সময় রাখি-রবিন্দর দম্পতির ১০ বছরের ছেলে আদিত্য ছিল স্কুলে।

দিল্লি পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা এম.এন. তিওয়ারি জানান, ‘রবিন্দর নিজের ছেলের লাশ দুইটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওযার পরই চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা দেয়, কিন্তু চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস না হওয়ায় পরে জয়পুর গোল্ডেন হাসপতালে নিজের ছেলের লাশ নিয়ে যান তিনি। সেখানেও তাদের মৃত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়’। লাশ দুইটিকে পোস্টমর্টেমের জন্য বাবা সাহেব আম্বেদকর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা, এই ঘটনার পিছনে অন্য কারও হাত নেই।

বিডি-প্রতিদিন/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow