Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৯ মার্চ, ২০১৭ ০৯:২৯ অনলাইন ভার্সন
নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে কারণে ভেসে আসে তিমিরা
অনলাইন ডেস্ক
নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে কারণে ভেসে আসে তিমিরা

নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন বে ঘেঁষা ছবির মতো সুন্দর ফেয়ারওয়েল স্পিটে সম্প্রতি ভেসে এসেছিল অন্তত ৪১৬টা লং ফিনড পাইলট হোয়েল। ২৫০টি নিথর। বাকিরা মৃতপ্রায়। সেবা করে এদের কয়েকটিকে গভীর সমুদ্রে ফেরত পাঠান স্থানীয়রা। বাকিরা ধুঁকছিল। পরে জোয়ার ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

গত বছরও এমন ঘটে ভারতের তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে। আশিটি শর্ট ফিনড হোয়েল ভেসে আসে মানপড় সৈকতে। ৩৬টি প্রাণীকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিতে পারলেও বাকিরা মারা গেছে সৈকতেই। কখনও মুম্বাইয়ের জুহুতে তো কখনও ওড়িশার গঞ্জাম, তো কখনও পারাদীপে ভেসে এসেছে নানা প্রজাতির তিমির দেহ। কিন্তু কেন?

বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, এক বার পাড়ে চলে এলে তিমিরা আর ফিরতে পারে না। একে ভারী চেহারা, তার উপর গোটা দেহে চর্বির স্তর। আচমকা পানির অভাবে দেহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। তার উপর সমুদ্রের গভীরে জলস্তরের যে চাপ, পাড়ে এসে হঠাৎ তা চলে যাওয়ায় স্নায়ুতন্ত্রও জানান দেয়, মৃত্যু আসন্ন।  

এ অবস্থায় কিছু প্রাণীকে সমুদ্রে ফেরত পাঠানো গেলেও প্রাণের ঝুঁকি থেকেই যায়। কারণ কিছু প্রজাতির তিমি সাধারণত দল বেঁধে থাকে। এরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে শব্দ আদানপ্রদান করে। দলে কেউ বিপদে পড়লে সঙ্কেত পেয়ে বাকিরা তাদের সাহায্য করতে আসে। ফলে একই বিপদের মুখে পড়ে তারাও।  

অনেক ক্ষেত্রে আবার দলনেতার মৃত্যুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে তিমির দল। জেনেবুঝে মৃত্যুকেই বেছে নেয় তখন। অতএব এদের বাঁচাতে হলে একসঙ্গে সকলকে ফিরিয়ে দিতে হবে সমুদ্রে। সংখ্যাটা বেশি হলে যা অসম্ভব, বলছেন সমুদ্র বিজ্ঞানী ও তিমি-বিশেষজ্ঞ কুমারন শতশিবম।

কিন্তু গভীর সমুদ্রের বাসিন্দারা হঠাৎ সৈকতে এসে ভিড় করছে কেন? বেশ কিছু আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা।  

১) যে সব তিমি দল বেঁধে পরিবার নিয়ে থাকে, পাড়ে এসে গণমৃত্যুর সম্ভাবনা তাদের ক্ষেত্রে বেশি। কোনও এক জন ভুল করে পাড়ে চলে এলে, বাকিরাও একই কাজ করে। লং ফিনড পাইলট হোয়েলের পরিবারের সদস্য সংখ্যা কখনও কখনও হাজার ছুঁইছুঁইও হয়।  

২) অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানেও সমুদ্রতীরে চলে আসে এরা। কখনও আবার খুনি-তিমির ভয়ে পালাতে গিয়ে অজান্তেই বেছে নেয় মৃত্যুপথ। ক্রমশ ঢালু হয়ে সমুদ্রে এসে মিশে যাওয়া তীরও অনেক সময় দিকভ্রান্ত করে তিমিদের।  

৩) নৌযানের গতিবিধির উপর নজর রাখতে তিমিদের মতো শোনার (সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড রেঞ্জিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নৌবাহিনীও। সেই শব্দ তরঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিমিদের মস্তিষ্কের কোষ। কখনও কখনও শরীরের ভিতরে রক্তপাতও ঘটে। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, নৌবাহিনীর শব্দতরঙ্গকে তিমি অনেক সময় বিপদ সঙ্কেত ভেবে ভুল করে।  

৪) সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল বের করার সময় মানুষ যে বিস্ফোরণ ঘটায়, তাতে তিমিদের স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুল পথে চলে আসে তারা।

বিডি প্রতিদিন/৯ মার্চ ২০১৭/এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow