Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ০৮:৫৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ১২:২৭
১২ বছরেই মা, বাড়ি ছাড়া করার হুমকি
অনলাইন ডেস্ক
১২ বছরেই মা, বাড়ি ছাড়া করার হুমকি

একদিকে গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য পরিবারের প্রাণপণ চেষ্টা। অন্য দিকে, পাড়াপ্রতিবেশীর রক্তচক্ষু।

সেই টানাহ্যাঁচড়ার মাঝে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কুমারী মা ও তার সদ্যোজাত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

অভিযোগ, ধর্ষণের কারণেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছে ১২ বছর বয়সী ছাত্রীটি। নাবালিকা মায়ের আশঙ্কা, বাড়ি ফিরলেই লাঞ্ছনা, মারধর, অত্যাচার হবে তার ওপর।

গত ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে সে, ভারতের কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে। নাম-বয়স সবই গোপন করে তাকে ভর্তি করানো হয়েছে। জুড়ে দেওয়া হয়েছে স্বামীর ভুয়া নাম।

অভিযোগ, নিকটবর্তী গ্রামে ফিরলেই মারধর করে বাড়ি ছাড়া করার ভয় দেখানো হচ্ছে হাসপাতালের বেডেই। বালিকার দাদা বলেন, ‘‘গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর এসে হাসপাতালে ঢুকে নাতনিকে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা আতঙ্কিত। ’’ হাসপাতালের বেডে বসে ওই ছাত্রী বলে, ‘‘আমার মরে যাওয়াই ভাল। খুব ভয় করছে। একদিন আমি রাত ৮টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলাম। তখন অন্ধকারে আমার সাইকেল আটকায় দু’জন। চিনতে পারিনি। তারা আমার উপর অত্যাচার করেছিল। এখন আমি আমার মেয়েকে নিয়ে কী করব?’’ তারপরই বিছানায় মুখ গোঁজে। কাঁদতে শুরু করে।

গ্রামেরই একদল ‘প্রভাবশালী’ রবিবার দুপুরে হাসপাতালে এসেছিল। ওই দলেরই কেউ কেউ ছাত্রীর পরিবারকে ভয় দেখায় বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের একজন বলেন, ‘‘কেন মেয়েটি মা হল, তার জবাব চাই। আমরা ওদের ছাড়ব না। গ্রামের সকলে ক্ষেপে আছে। ওর দাদাই অপকর্ম করেছে। ওকে অপরাধ স্বীকার করতে হবে। ’’ অন্যেরাও প্রায় একই অভিযোগ তোলেন। কিন্তু সব অভিযোগই অস্বীকার করেন ছাত্রীর দাদা, বাবা-সহ পরিবারের অন্যেরা।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, খাতায় ওই নাবালিকার বয়স লেখা রয়েছে ১৬ বছর। কেন এমন করেছেন? ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘‘মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। চক্ষুলজ্জায় তখন অভিযোগ করতে পারিনি। যদি হাসপাতাল ভর্তি না নেয়, সেই ভয়েই মেয়ের বয়স ভুল লিখেছি। স্বামীর ভুয়া পরিচয় দিয়েছি। ’’

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow