Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৯:২৭ অনলাইন ভার্সন
শুধু চা খেয়েই বেঁচে আছেন ৩০ বছর ধরে!
অনলাইন ডেস্ক
শুধু চা খেয়েই বেঁচে আছেন ৩০ বছর ধরে!

শীতের সকালে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চায়ের থেকে প্রিয় বোধহয় আর কিছুই হয় না। আর বাঙালির তো চায়ের প্রতি একটু বেশিই ভালোবাসা রয়েছে। কিন্তু তা বলে একটানা ৩০ বছর শুধু চা খেয়ে কেউ বেঁচে থাকতে পারেন?

হ্যাঁ তাই। পিল্লি দেবী (৪৪) ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়েই সব খাওয়া ছেড়ে দেন। শুধু চা খেয়েই ৩০ বছর বেঁচে আছেন তিনি! ভারতের ছত্তিশগড়ের পিল্লি দেবী সবার কাছে ‘চাওয়ালি চাচি’ নামেই পরিচিত।

গত তিরিশ বছর ধরে, শুধু চা খেয়ে ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ ভাবে বেঁচে রয়েছেন বলেই দাবি কোরিয়া জেলার বরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা পিল্লি দেবীর।

তার দাবি, ১১ বছর বয়স থেকেই অন্য সব খাওয়া-দাওয়া ত্যাগ করে দিয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র চা খেয়েই দিব্যি বেঁচে রয়েছেন শেষ তিরিশ বছর ধরে।

পিল্লি দেবীর বাবা রতিরামের মতে, ৪৪ বছর বয়সী পিল্লি যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন তখন থেকেই তিনি অন্য সব খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেন।পিল্লি দেবী স্কুলে পড়া অবস্থায় পাটনা স্কুল থেকে জেলা পর্যায়ের একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিল। ফিরে এসে হঠাৎ করেই খাবার আর জল খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেয়।

তার বাবা আরও জানান, পিল্লি প্রাথমিকভাবে দুধ চা দিয়ে বিস্কুট বা রুটি খেতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি লাল চা খেতে শুরু করেন। তাও দিনে মাত্র একবার, নিয়ম মেনে সূর্যাস্তের পরে তিনি এক কাপ লাল চা খেয়েই ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার সব সেরে ফেলেন।

পিল্লি দেবীর ভাই বিহারীলাল রাজভাড়ে জানান, তার কোনও অসুখ হয়েছে কিনা জানতে আমরা চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যাই, কিন্তু ডাক্তাররা তার এই অদ্ভুত আচরণের পিছনে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয় করতে পারেননি।

বিহারীলাল বলেন, আমরা ওকে অনেক হাসপাতালে নিয়ে গেছি, ডাক্তাররা তার এই অদ্ভুত ইচ্ছা আর কাজের পিছনে কোনও কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি।

পরিবারের সদস্যদের মতে, পিল্লি খুব কমই ঘরের বাইরে বেরোন। সারা দিন ধরে ঘরের মধ্যেই তিনি শিবের পুজো করেন।

এ বিষয়ে কোরিয়ায় জেলা হাসপাতালের ডা. এস কে গুপ্তা বলেন, মানুষের পক্ষে কেবল মাত্র চা খেয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। নবরাত্রির সময় ৯ দিন ধরে মানুষ টানা উপবাস রাখেন এবং কেবল মাত্র চা খেয়েই কাটান। সেই বিষয়টা আলাদা। কিন্তু, ৩০ বছর অনেকটা লম্বা সময়! এটা সত্যিই অসম্ভব ব্যাপার!
 
ডি প্রতিদিন/১২ জানুয়ারি ২০১৯/আরাফাত

আপনার মন্তব্য

up-arrow