Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৭
নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে নয়া কৌশলে সরকার
প্যাকেজ ভ্যাট বহাল থাকছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্যাকেজ ভ্যাট বহাল থাকছে

আসছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে নয়া কৌশল নিতে যাচ্ছে সরকার। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে নতুন বাজেটে বহাল থাকছে প্যাকেজ ভ্যাট। বাড়ছে প্যাকেজ ভ্যাটের স্তর। এর সঙ্গে প্যাকেজ ভ্যাট হার বা অর্থের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারের অগ্রাধিকারে আছে নতুন আইন আগামী ১ জুলাই থেকে চালুর বিষয়টিও। ভ্যাট আইন সংশোধনে সরকার গঠিত ‘এনবিআর ও এফবিসিসিআই যৌথ ভ্যাট আইন পর্যালোচনা কমিটির ৭ দফা সুপারিশের প্রতিফলন অর্থমন্ত্রীর আগামীকালের প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যেতে পারে। সূত্র জানায় সরকার নতুন ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক কর আইন-২০১২-এর বাস্তবায়নে বর্তমানে দোলাচলে রয়েছে। কারণ, ভ্যাটে বহুস্তর চালু রেখে আইন সংশোধনের দাবিতে ব্যবসায়ীদের চাপ এবং নতুন আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নে দাতাসংস্থাগুলোর চাপ বাড়ছেই। অন্যদিকে রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় সরকারের দুর্বলতাও রয়েছে। আগামী ১ জুলাই নতুন অর্থবছরে নতুন ভ্যাট আইন চালু এবং এনবিআর-এফবিসিসিআইর ৭ যৌথ সুপারিশ নিয়ে করণীয় ঠিক করতে, বিষয়টি সংসদীয় আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করতে চায় সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে আজ সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উত্থাপন করতে যাচ্ছেন, তাতে বহাল থাকছে প্যাকেজ ভ্যাট আইন। এর সঙ্গে সরকার নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কর আইন বাস্তবায়নের পথেও এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে এলাকাভিত্তিক প্যাকেজ ভ্যাটের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। যদিও নতুন আইনে এ পদ্ধতিতে ভ্যাট পরিশোধের নিয়ম রাখা হয়নি। তবে ভ্যাটের পরিমাণ গড়ে বর্তমানের চেয়ে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। অর্থাৎ বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ১৪ হাজার টাকা প্যাকেজ ভ্যাট নির্ধারিত আছে। এটিকে ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমানে অন্য সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ১০ হাজার টাকা, জেলা শহরের পৌর এলাকার জন্য ৭ হাজার ২০০ টাকা এবং দেশের অন্যান্য এলাকার জন্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা করে প্যাকেজ ভ্যাট কার্যকর রয়েছে। যদিও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল হয়ে যাবে। সব ক্ষেত্রেই তখন ১৫     শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হবে। এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি  এ কে আজাদ বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সবার জন্য ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ না করে খাতওয়ারী ৮ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১২ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের দাবি করছি। এই দাবি মেনে নিলে ৮০ লাখ টাকার উপরে টার্নওভারের ক্ষেত্রে নতুন ভ্যাট আইন মেনে নেব। এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাইবেল বা কোরআন নয়, যে পরিবর্তন করা যাবে না। জানা গেছে, ভ্যাট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার গঠিত পর্যালোচনা কমিটি ৭ দফা সুপারিশ ও বেশ কিছু মতামত দিয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু ওই সুপারিশ সরকার উপেক্ষা করছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন আইন বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি চিঠি দেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। চিঠিতে বলা হয়, সব সরবরাহের (উৎপাদন-ব্যবসা-সেবা প্রদান) ক্ষেত্রে বার্ষিক ৩৬ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করতে হবে। এর ধারাবাহিকতায় বার্ষিক টার্নওভার ৩৬ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত কেবলমাত্র উৎপাদন পর্যায়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত টার্নওভার কর আরোপ করা হোক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow