Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:৪৩
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন আজ
বিজিবির কল্যাণমুখী সীমান্ত ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিজিবির কল্যাণমুখী সীমান্ত ব্যাংক

সীমান্তে বসবাসরত অনুন্নত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন।

রাইফেলস কল্যাণ সংস্থা ব্যাংকটি পরিচালনা করবে। পদাধিকার বলে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে নতুন এই ব্যাংকের কার্যক্রম চলবে। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় করা হয়েছে রাজধানীর ঝিগাতলায় সীমান্ত স্কয়ারের কাছে নির্মিত নতুন ভবনে। ব্যাংকটির প্রথম এমডি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চতুর্থ প্রজন্মের এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন এমডি মুখলেছুর রহমান। বিজিবি সদস্যদের মালিকানাধীন সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড একটি পূর্ণাঙ্গ তফসিলি ব্যাংকের আদলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪শ’ কোটি টাকা। সীমান্ত ব্যাংকের লভ্যাংশের পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারের নানামুখী কল্যাণে। এই ব্যাংকে চাকরিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিজিবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। তাদের কোটাও থাকবে। এ ব্যাংক থেকে শহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া থাকবে পেনশন স্কিম, গৃহ নির্মাণ ঋণ, দুরারোগ্য রোগের জন্য দেশি ও বৈদেশিক চিকিত্সা সহায়তা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বিবাহঋণ, কৃষিঋণ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মতো প্রান্তিক ও সীমান্তবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। ব্যাংকটির এমডি মুখলেছুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ ব্যাংক শুধু বাণিজ্যিক লভ্যাংশের জন্য পরিচালিত না হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ কল্যাণমুখী একটি আধুনিক ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে। পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে এ ব্যাংকটি বিজিবি সদস্যদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে চায়।

ব্যাংকটির এমডি আরও জানান, সারা দেশে যেখানে বিজিবির নেটওয়ার্ক আছে, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার সব মানুষকে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে। বিজিবির সদস্য ছাড়াও সীমান্তে বসবাসরত অনুন্নত মানুষের পাশে দাঁড়াবে ব্যাংকটি। তাদের কৃষি কাজে সহায়তা ও শিল্প গড়ে তুলতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।

মুখলেছুর রহমান বলেন, সীমান্ত ব্যাংক-কে আমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি আদর্শ ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পর চলতি বছরই ব্যাংকটির ৬টি শাখা খোলার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া আগামী তিন বছরে সারা দেশে আরও প্রায় ৩০টি শাখা খোলা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় শহরে এই ব্যাংকের শাখা খোলা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিবি সপ্তাহ অনুষ্ঠানে এ ধরনের একটি ব্যাংক গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর বিজিবি ব্যাংক গঠনের কার্যক্রম শুরু করে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow