Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০২
গোলমাল মিটল চার হাজার কোটি টাকার
এখনো ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি রয়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে
রুকনুজ্জামান অঞ্জন
গোলমাল মিটল চার হাজার কোটি টাকার

চার মাসে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির মীমাংসা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যে অর্থ ব্যয়ে গোলমাল ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত উত্থাপিত অডিট আপত্তি ছিল এক হাজার ২৯৪টি। এতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছরের মে মাস থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫টি অডিট আপত্তি মীমাংসা করা হয়েছে। এতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। বর্তমানে ৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকার ওপর অডিট আপত্তি রয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে। গত ২১ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে ওই প্রতিবেদনটি পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে পাঠানো পৃথক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের জিএম (চলতি দায়িত্বে) মো. রফিক উল্লাহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানায়, জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে অডিট আপত্তিতে জড়িত অর্থের মীমাংসা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম ও বরিশাল অফিসে একটি করে ত্রিপাক্ষিক সভা হয়েছে। এ অবস্থায় অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্য শাখাগুলোর সঙ্গেও একই ধরনের সভা অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল অর্থের অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির তাগাদা দেয় জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে তথ্য পাঠানো হয়েছিল, সে অনুযায়ী স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রায় ২৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার গোলমাল ধরা পড়ে যে অর্থ নিয়ে অডিট আপত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে আপত্তিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। আর ১৯ হাজার ৮১ কোটি টাকার অডিট আপত্তি উঠেছে ১৯৭২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যে অর্থের গরমিল হয়েছে তার বেশির ভাগই ছোট ছোট হিসাবের মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা প্রদান, ডরমেটরি ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পোশাক ধোলাই ভাতা, পরিদর্শনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের টিএ/ডিএ প্রদান, প্রেরণা বোনাসসহ প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং সুদ সংক্রান্ত বকেয়া বোনাস প্রদান এবং টেলিফোন ও মোবাইল বিল প্রদানের মতো ছোট ছোট হিসাবের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ আপত্তি উঠেছে। গত ১০ মে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করে অর্থ আদায়ের বিষয়ে যথাযথ তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন কমিটির সদস্যরা।

কমিটির সদস্য আবদুর রউফ ওই সময় জানিয়েছিলেন, কমিটি যত দ্রুত সম্ভব অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলেছে। এ জন্য খুব শিগগিরই মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আর আপত্তির সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow