Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১২
প্যাকেজ ভ্যাট অকার্যকর, দাবি ব্যবসায়ীদের
ভ্যাট জটিলতায় অসহায় ব্যবসায়ীরা
রুহুল আমিন রাসেল
ভ্যাট জটিলতায় অসহায় ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নতুন আইন চালু না করে প্যাকেজ ভ্যাট প্রথা বহাল রাখার পরও ফের জটিলতায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ— প্যাকেজ ভ্যাট বহাল থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর নয়।

এনবিআরের একটি প্রজ্ঞাপনের কারণে মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট ও লেনদেন কর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। ওই প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের লেনদেন কর সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ ভ্যাট দিলেও সে অর্থ না নিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তারা হয়রানি করছে।   তবে সরকারের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। এনবিআর সারা বছরই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই এনবিআর বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় মিলিত হবে। সৎ ব্যবসায়ীদের সহায়তা করাই এনবিআরের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এফবিসিসিআইর প্রথম সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ীদের অসহায়ত্বের কথা ইতিমধ্যে আমরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে জানিয়েছি। আমরা তাকে বলেছি— নতুন আইনে ভ্যাটর হিসাব কষতে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদেরও হিসাবরক্ষক রাখতে হবে, যা এখনো সম্ভবপর নয়। তাই সরকার এ ব্যাপারে সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবে। এটা সময়ের দাবি। তবে অর্থমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন— কিছু কিছু দাবি নিয়ে তিনি দ্রুত আলোচনা করে সমাধান করবেন। ভ্যাট ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত ‘ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম’র সাধারণ সম্পাদক  ও এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চলতি অর্থবছর নতুন ভ্যাট আইন চালু না হলেও বাজেটে ওই আইনের ৯০ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভ্যাট নিয়ে এফবিসিসিআইর সুপারিশ কার্যকর করা হয়নি। তারপরও নিচের স্তরের যেসব ব্যবসায়ী নিয়ম মেনে ২৮ হাজার টাকা ভ্যাট পরিশোধ করছেন, তাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। ফলে দেশের কর্মসংস্থান ও আর্থিক প্রবৃদ্ধির প্রধানতম অধিক্ষেত্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, সেবা খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দোকান পর্যায়ে অহেতুক জটিলতা ও অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেট গত ১ জুলাই কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশের ৪৪ অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বারের প্রস্তাবের আলোকে সম্প্রতি এনবিআরে আমদানি শুল্ক, আয়কর এবং বিশেষ করে মূল্য সংযোজন করের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

ভ্যাটের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে আন্দোলনরত ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের চাপের মুখে এনবিআরকে দেওয়া ওই পত্রে এফবিসিসিআই বলেছে, মাত্র ৮০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ টার্নওভারের শর্তাধীনে মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ২৮ হাজার টাকা সর্বনিম্ন ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে (এসআরও নং-১৮১-আইন/২০১৬/৭৫৭-মূসক)। এতে বিদ্যমান সব প্যাকেজ ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ভ্যাটের আওতাবহির্ভূত থাকবেন। অন্যদিকে এসআরও নং-১৮৫-আইন/২০১৬/৭৬১-মূসক এর মাধ্যমে মেট্রোপলিটন এলাকায় টার্নওভার সুবিধা রহিত করা হয়েছে। ফলে প্যাকেজ ভ্যাট এবং টার্নওভার কর সম্পূর্ণ অকার্যকর ও অপ্রাসঙ্গিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।

এফবিসিসিআইর সুপারিশে  আরও  বলা হয়, কৃষি যন্ত্রাংশ, কৃষি উপকরণ, পিভিসি পাইপ ব্যবসায়দের ওপর থেকে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট সম্পূর্ণ রূপে প্রত্যাহার করা হোক। কৃষকরা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। কারণ— বর্তমান নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কৃষি উপকরণ বা যন্ত্রাংশ ক্রয় করে ধান উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। যদি কৃষি যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীর নিকট থেকে খুচরা ভ্যাট আদায় বাস্তবায়ন  করা  হয়, তাহলে এটা কৃষকদের ওপর বর্তাবে। কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow