Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৬

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সচিব পর্যায়ের বৈঠক

গুরুত্ব পাচ্ছে তিন ইস্যু

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

গুরুত্ব পাচ্ছে তিন ইস্যু

বাংলাদেশ-মিয়ানমার বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ শুরু হচ্ছে ঢাকায়। এ বৈঠকে তিনটি ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইস্যু তিনটি হচ্ছে : বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), নৌপথে যোগাযোগ সম্পর্ক তৈরি করতে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি এবং সরাসরি ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে যেসব বাধা রয়েছে তা দূর করার ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত ইস্যুগুলোই আমাদের আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর একটি হোটেলে সকাল ১০টায় দুই দেশের মধ্যে বৈঠকটি শুরু হবে। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এবং মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি টো অং মিন্ট নেতৃত্ব দেবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৪ সালের জুনে মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিতোয় অনুষ্ঠিত সপ্তম বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকে দেশটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বাজার সুবিধা চাওয়া হয়। তবে একে অন্যের বাজারে শুল্ক সুবিধা নিতে গেলে বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর মিয়ানমার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। গত বছরের প্রথম দিকে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ট্যারিফ কমিশনের কাছে মতামত চাওয়া হয়। আজকের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় পিটিএ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। এ ছাড়া ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার সফরে গিয়ে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে কয়েকটি চুক্তি করে আসেন। ওই চুক্তির আওতাতেই দুই দেশের ব্যাংকিং সম্পর্ক চালু, বিমান চলাচল ও কোস্টাল শিপিং চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হলেও কোস্টাল শিপিং ও সরাসরি ব্যাংকিং সম্পর্ক কার্যকর হয়নি দেশটির সঙ্গে। কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমারের সঙ্গে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি হলে নাফ নদ ব্যবহার করেই দুই দেশের জাহাজ আসা-যাওয়া করবে। মিয়ানমারের মংদু থেকে সিটউই এবং বাংলাদেশের অংশে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত উপকূলীয় জাহাজ চলাচল সম্পর্ক স্থাপন হবে। বর্তমানে টেকনাফ ও গুংদুমকে কেন্দ্র করে সীমিত আকারে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য চলে। গত মাসে মংদুতে দেশটির পুলিশের ওপর হামলায় সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সরাসরি ব্যাংকিং সম্পর্ক না থাকার কারণেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বাণিজ্য সম্প্রসারণে এসব বাধা দূর করার বিষয়গুলোতেই আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ১৯৯৪ সালে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুরু হয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক মিয়ানমারের অনুকূলে। বাংলাদেশ সেখান থেকে যা রপ্তানি করে আমদানি করে তার চেয়ে বেশি। সর্বশেষ জয়েন্ট ট্রেড কমিশনের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। গত বছরে দুই দেশের বাণিজ্য ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল বলে ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে।


আপনার মন্তব্য