Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২২:৪৮
প্রতি প্রান্তিকে শিল্পঋণ বিতরণ কমেছে
বিনিয়োগ আশানুরূপ বাড়ছে না
মানিক মুনতাসির
বিনিয়োগ আশানুরূপ বাড়ছে না

দেশে আশানুরূপ বাড়ছে না বিনিয়োগ। এজন্য ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে অতিরিক্ত তারল্য। এদিকে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিআইডিএ) প্রায় প্রতিদিনই কমছে দেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন প্রস্তাব। তবে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এসব প্রস্তাবের বেশির ভাগই চূড়ান্তভাবে বিনিয়োগ আকারে আসছে না। অর্থাৎ প্রকৃত বিনিয়োগের গতি অত্যন্ত মন্থর। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশি বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে ২৬৯টি শিল্প ইউনিট। এতে মোট ১৯ হাজার ৫১০ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ হওয়ার কথা। আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন-২০১৬) দেশীয় শিল্প ইউনিট বিনিয়োগ প্রস্তাব আকারে নিবন্ধিত হয়েছিল ৩৯৪টি। তাতে বিনিয়োগ হওয়ার কথা ছিল ২৯ হাজার ১০৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। একইভাবে প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) সময়ে চার শতাধিক শিল্প ইউনিট নিবন্ধিত হয়েছিল বিনিয়োগ প্রস্তাব আকারে। যার বিপরীতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ছয় মাসে দেশি খাত থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকারও কম বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি বছরের প্রতি প্রান্তিকে দেশে শিল্পঋণ বিতরণ কমেছে দেড় থেকে তিন হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে শিল্প খাতে মেয়াদিঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এর আগে ওই বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিতরণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। এক প্রান্তিকের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর শিল্প খাতে মেয়াদিঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঋণ বিতরণের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা কমে ১৩ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে বলে জানা গেছে।

নবগঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) সূত্র জানায়, গত বছর দেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন কমলেও বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের সংখ্যা প্রতি প্রান্তিকেই বেড়েছে। সেই সঙ্গে এ খাতে প্রকৃত বিনিয়োগও বেড়েছে। কিন্তু দেশীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন না। জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তিন মাসে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয় ৪০৯টি। আর এপ্রিল-জুনে নিবন্ধিত হয় ৩৯৪টি এবং জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে ৩০৫টি। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতিদিনই বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের সংখ্যা কমেছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকেও বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের সংখ্যা কমেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশি বিনিয়োগের নিবন্ধন কমলেও বিদেশি বিনিয়োগ আগের তুলনায় বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক জুলাই-সেপ্টেম্বরে দেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন কমেছে ১০ হাজার কোটি টাকা। যা শতকরা হিসেবে ৩৩ শতাংশ। তবে ওই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগের নিবন্ধন বেড়েছে ১৭৬ শতাংশ। এদিকে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে শিল্পঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও অবকাঠামো দুর্বলতা রয়েছে। এ ছাড়া আস্থার সংকট থাকায় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করছেন না। ফলে ব্যাংকগুলোর শিল্পঋণ বিতরণে মন্থর গতি বিরাজ করছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমদ। বিশ্বব্যাংক বলছে, একটি দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য মৌলিকভাবে ৭টি পূর্বশত রয়েছে। এগুলো হলো—পুঁজির সহজলভ্যতা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, পর্যাপ্ত জমি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহসহ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থিতিশীল কর কাঠামো, দক্ষ শ্রমিক এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সহজ ব্যবস্থাপনা। এসবের প্রত্যেকটিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্যোক্তারা ভোগান্তি কিংবা জটিলতার মুখে পড়েন। ফলে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হয় না। এমনকি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হওয়ার পরও হয়রানির শিকার হয়ে নিরাশ হন। ফলে তারা চূড়ান্তভাবে বিনিয়োগে এগিয়ে আসেন না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow