Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১২
বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ নির্দেশনা
মানিক মুনতাসির
বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ নির্দেশনা

অর্থনৈতিক এলাকা ও শিল্পাঞ্চল ব্যতীত অন্য কোনো জায়গায় শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেবে না সরকার। সব শিল্পখাতকে একই ছাদের নিচে আনতে এ ব্যবস্থা

 

সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো নতুন বছরের জন্য করণীয় শীর্ষক এক পত্রে এসব নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন ও ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই সারসংক্ষেপে বলা হয়, দেশ থেকে যেন কোনোভাবেই অর্থ পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের শতভাগ পুঁজি যেন দেশেই বিনিয়োগ হয় এজন্য অর্থ বিভাগ, এনবিআর ও নবগঠিত বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। ব্যাংকে পড়ে থাকা বিপুল অলস টাকাকে বিনিয়োগে আনতে ব্যাংকগুলো যেন উদ্ভাবনী খাতের আইডিয়া বের করতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা করতে বলা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের হয়রানিমুক্তভাবে ব্যাংকঋণ এবং বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে অবকাঠামো ও জমিজমা প্রাপ্তিসংক্রান্ত বিষয়াদি সহজ করতে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতকে সব ধরনের চাপমুক্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কেননা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ দীর্ঘদিন থমকে রয়েছে।

অথচ দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাত সরকারি খাতের চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, নতুন  কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, এডিপি বাস্তবায়নসহ কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে দেশজুড়ে ১০০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা)। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ১০০টি ইকোনমিক জোনে ১৫ বছরে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে বেজা। আর এতে বিনিয়োগ হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সূত্র জানায়, এখন থেকে অর্থনৈতিক এলাকা ও শিল্পাঞ্চল ব্যতীত অন্য কোনো জায়গায় শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেবে না সরকার। সব শিল্পখাতকে একই ছাদের নিচে আনতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে খাতভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলারও পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা সংবলিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ করলে উদ্যোক্তাদের নানা ধরনের প্রণোদনা ও ছাড় দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে মহাজোট সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত রাস্তাঘাট, গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি, পয়ঃনিষ্কাশনসহ সব ধরনের সুযোগ- সুবিধা সংবলিত দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হচ্ছে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এরমধ্যে চারটিতে শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে চলতি বছরই। এদিকে ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনীতিতে ভারসাম্য রাখতে কিছু বিষয়ে দ্রুত সংস্কার করা দরকার। এগুলো হলো সঞ্চয়পত্রের সুদহার সমন্বয় করা। মুদ্রার বিনিময়হার সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানো। তবে বুধবার সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন, তেলের দাম কমছে না। এ ছাড়া মধ্যমেয়াদে কিছু সংস্কারও জরুরি মনে করে সিপিডি। সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য মনে করেন, এগুলো করতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়ে সিপিডি বলেছে, এটি হবে একটি অস্থায়ী কমিশন। কমিশনটি ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে এবং কুঋণ কমিয়ে আনতে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে করণীয় নির্ধারণ করে সরকারকে সুপারিশ দেবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কয়েক বছর ধরেই ২২ শতাংশে থেমে রয়েছে। অথচ কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে ব্যক্তি খাতের এ বিনিয়োগকে ২৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ফলে রাস্তাঘাট, অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিস বিশেষ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow