Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:২১
আরও ৫ লাখ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায়
রুহুল আমিন রাসেল
আরও ৫ লাখ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায়

সরকারের রূপকল্প-২০২১ সালকে সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে আরও পাঁচ লাখ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানকে মূল্য সংযোজন কর— মূসক বা ভ্যাটের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় এই পাঁচ লাখ মূসক দাখিলপত্র প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে একটি কর্মকৌশল ঠিক করার তথ্য দিয়েছে এনবিআর।

সরকারের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড— এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ভ্যাটের আওতায় আসেনি। তাদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে চাই। ভ্যাটে একটি বিশাল সম্ভাবনা আছে। সরকারও সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়। মূলত এই লক্ষ্যেই ভ্যাট প্রতিষ্ঠানের দাখিলপত্র পাঁচ লাখে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, সারা দেশে ২৫ লাখ দোকান আছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ভ্যাট নিবন্ধনকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও, নিয়মিত রিটার্ন জমা দেয় প্রায় ৪১ হাজার। বাকিরা দেয় ফাঁকি। যদিও ২০০৯ সালে ১১টি খাতে ইসিআর ও পিওএস ব্যবহার চালু করা হলেও তাতে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আগামী ১ জুলাই নতুন অর্থবছর ২০১৭-১৮ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ককর আইনে এই ফাঁকির সুযোগ থাকছে না। নতুন আইন বাস্তবায়নের সঙ্গে অনলাইনে ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়াও চালু হচ্ছে। আগামী ১৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এর ফলে আগামী তিন বছরে ভ্যাট আদায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বাড়বে এবং প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে মনে করছে ভ্যাট প্রশাসন।

তথ্যমতে, ভ্যাট আদায়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের সবাই কম-বেশি এই ভ্যাট দেন। এটা পরোক্ষ কর, যা জনগণ সরাসরি দেয় না। দেশের জনগোষ্ঠীর শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে দিতে হয় ভ্যাট। জনগণের দেওয়া, ভ্যাট যায় কোথায়? সব ভ্যাট রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না হয়ে, যায় কারও কারও পকেটে। জানা গেছে, ভ্যাট ফাঁকিতে যে ১৩টি কৌশলের আশ্রয় নেন অসাধু ব্যবসায়ীরা, সেগুলো হলো- কিছু কিছু ব্যবসায়ী ঢাকা শহরের মধ্যে প্রকাশ্যে দিবালোকে ভ্যাট চালান (মূসক-১১ ও মূসক-১১/ক) ছাড়া পণ্য পরিবহন করে থাকে, যা ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ। ডুপ্লিকেট বা নকল ভ্যাট চালান ব্যবহার করা। একই ভ্যাট চালান একাধিকবার ব্যবহার করা। পণ্য বিক্রির তথ্য বিক্রয় রেজিস্টারে সঠিক উল্লেখ না করা বা আংশিকভাবে লিপিবদ্ধ করা। হিসাব-যন্ত্র বা ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার না করা। ইসিআর এবং পিওএস নষ্ট করে রাখা। আবার ইসিআর বা পিওএস চালান ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, সে চালান এবং মূসক-১১ চালান দুটোই ব্যবহার করা, দাখিলপত্র প্রদানের সময় ইসিআর এবং পিওএস চালান সংযুক্ত করা। নিজস্ব বিক্রয় ভাউচার ব্যবহার ও ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করে তার একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া বা সময়মতো প্রদান না করা। এবার ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে প্রযুক্তির জালে আসছে সারা দেশের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসমূহ। এ জন্য একশত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কিনছে সরকার। এই যন্ত্রপাতির মধ্যে ১০ হাজার ইউনিট ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস— ইএফডি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে সরকারের কেনা দামে সরবরাহ করা হবে। কেউ যেন এই যন্ত্র নষ্ট বা বন্ধ করে ভ্যাট ফাঁকি দিতে না পারেন, সে জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে এনবিআর। এনবিআরের তথ্যমতে, মোট দেশজ উত্পাদনে— জিডিপি খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। যা টাকার অংকে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আহরণ করা সম্ভব হলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হতে পারে। এ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত অর্থ বাদ দেওয়া হলে বছরে ন্যূনতম প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আহরণ করা সম্ভব। কিন্তু বিদ্যমান আইনের সনাতনী কর ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও অন্যান্য প্রায়োগিক সমস্যার কারণে বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও এই খাতে যথাযথ পরিমাণে রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই ব্যাপক রাজস্ব সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের ভ্যাট আহরণে ইএফডি সিস্টেম কেনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow