Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২১ জুন, ২০১৬ ১৮:০৭
'অর্থের কুমিররা আইনকে গ্রাস করতে পারে'
নিজস্ব প্রতিবেদক
'অর্থের কুমিররা আইনকে গ্রাস করতে পারে'

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বাজেট বাস্তবায়নের অন্তরায় হিসেবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন। তারা বলেন, দেশের মূল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হলেও মৌলবাদী অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৯ থেকে ১০ শতাংশ। এই অর্থ দিয়েই তারা ধর্মের নামে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য অবৈধ আধুনিক অস্ত্রাগার গড়ে তুলছে; যা দিয়ে এখন দেশে গুপ্তহত্যা চালানো হচ্ছে।

সাংসদরা বলেন, প্রশ্ন উঠেছে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসীদের নিয়ে। জঙ্গিরা মানুষ হত্যা করছে, পুলিশ জঙ্গি হত্যা করছে। কিন্তু দেশের হৃদপিণ্ড খুবলে খায় যে অথনৈতিক সন্ত্রাসী, তাদের প্রতি সরকার কেন টলারেন্স দেখাচ্ছে? প্রতি বছর গড়ে দেশ হতে ৮০কোটি ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই অর্থের কুমিররা আইনকে গ্রাস করতে পারে।

বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবার প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, জাসদের মঈন উদ্দিন খান বাদল, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. হাছান মাহমুদ, মো. তাজুল ইসলাম, সামসুল হক চৌধুরী, শওকত হাছানুর রহমান রিমন, আবু জাহির, আলী আজম, সৈয়দা সায়রা মহসিন, দিলারা জামান, মাহবুব আলী, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রমুখ।

জাসদের মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, উন্নয়নই একটি দেশের সবচেয়ে বড় কথা নয়। মানুষের জীবনের উন্নয়নের জন্য, দেশের উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন বলছি, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আবার হরহামেশাই দেখছি ক্রসফায়ার হচ্ছে। কিন্তু দেশের হৃদপিণ্ড খুবলে খায় যে অথনৈতিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা, তাদের প্রতি কেন টলারেন্স দেখাচ্ছেন? এই অর্থের কুমিররা আইনকে গ্রাস করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এরা টাকা নিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা বিচার করতে পারছি না। এই যে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরি হল, তার মামলা হয়েছে কিন্তু আমরা এগুতে পারছি না। সরকারকে আর্থিক সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই আর্থিক জঙ্গিদের ব্যাপারে সরকার নির্মোহ হয়ে দৃঢ় আচরণ করতে না পারলে, আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে, তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করলে, তাদেরকে শাস্তির হাতকড়া না পরালে, ইতিহাস আমাদেরকে একদিন সংবিধান লঙ্ঘনকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। তিনি জঙ্গিদের সমালোচনা করে বলেন, ''আমার ক্রমাগত ভাবনা, এই যে চাপাতি সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। হু ইজ দিস পিপল। এরা কারা? এই গুপ্তহত্যাকারীরা কারা? এরা কি কিছু মগজ ধোলাই করা রোবট? এদের কি কেউ চাবি মাইরা দিছে ছাইরা, তারা যা করার তাই করছে? না হলে চৌদ্দ পুরুষের সম্পর্ক নাই এমন একটি লোককে অনায়াসে সে কোপের পর কোপ দিচ্ছে কিভাবে? এরা কি কলের পুতুল?''
তিনি সরকারের অথনৈতিক পলিসির সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের ১০ শতাংশ মানুষের কাছে দেশের মোট সম্পদের ৪৬দশমিক ২শতাংশ চলে গেছে। তার মানে দেশের ৪৭ ভাগ সম্পদের মালিক হয়ে গেছে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ, দেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে ধরনের উন্নয়ন মডেল বিদ্যমান রয়েছ তাতে অর্থবহ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। মান সম্পন্ন শিক্ষার বৈষম্য থাকায় ভাল কাজের সুযোগ কম সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা নিচের দিকের গরীব ৪০ শতাংশ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সুরক্ষা দিয়ে চরম দারিদ্র থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাদের জন্য অর্থবহ কমংস্থান সৃষ্টি করতে পারছি না।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন অগ্নিসন্ত্রাসে ব্যর্থ হয়ে এখন গুপ্তহত্যা শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। মুখে ইসলামের কথা বলে ক্ষমতার লোভে এখন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। যে নেত্রী ক্ষমতার লোভে সারা ইসলাম উম্মাহ’র শত্রু ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলায়, তার মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্রই সম্ভব। এ ঘটনায় খালেদা জিয়া ইসলামের দুশমন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ইসরায়েলের মোসাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে খালেদা জিয়া দেশবিরোধী কী কী ষড়যন্ত্র করছে তা তদন্ত করে বের করা উচিত।

বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এখন আলোর পথে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে যখন আমরা মধ্যম আয়ের দেশে যাব, তখন আমাদের প্রায় ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন পড়বে। আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। এখন ৭৬ ভাগ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছে। আগামী বিশ্ব হবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বিশ্ব। সেদিকেই যেতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আর তার নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয়েছে এই গুপ্ত হত্যার সাথে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। যেকারণে  তারা আজকে প্রতিবাদ করছে। যখন পুলিশের অভিযান শুরু হল তখন বিএনপি নেত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেল। পুলিশ তো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে, যারা গুপ্ত হত্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আ ফ  ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক গোষ্ঠী বারবার বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হনন ও লুন্ঠন করার চেষ্টা করেছে। এই যাত্রাটা শুরু হয়েছে অবৈধ সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে। পরবর্তীতে তার সহধর্মিনী খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের জনগণকে এ বিষয়ে ভাবতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow