Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৯ জুন, ২০১৬ ১৬:২২
আপডেট : ২৯ জুন, ২০১৬ ১৬:৫১
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের জিডিপি এখন অন্যদের কাছে ঈর্ষণীয়। আমরা এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। এখন আর কারো মুখাপেক্ষী হতে হয় না। এবার বাজেটে ৭ দশমিক ২ ভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, ইনশাল্লাহ তা অর্জিত হবে। অর্থসামাজিক প্রতিটি সুচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজেট আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের রপ্তানি পণ্যে ওপর উৎসে করের পরিমাণ দেড় শতাংশ না করে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রস্তাব করেন ।

সংসদের বাজেট অধিবেশনে বুধবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর সংশোধনের প্রস্তাবসহ এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রথা অনুযায়ী তার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর এসব সুপারিশ বাজেট প্রস্তাবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করেছেন। তার এই প্রস্তাবকে আমি অনুশাসন মনে করি, কারণ আমি তার হয়েই কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, তার সব প্রস্তাবই গ্রহণ হয়ে গেছে।

বাজেট প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তৈরি পোশাকের উৎসে কর কমানোর জন্য পোশাক শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে তাদের অনুরোধ বিবেচনা করে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করছি।

প্রধানমন্ত্রী মাদারীপুরে শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আটক ‘জঙ্গি’ ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে বন্দুযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘মায়াকান্না’ কারণ জানতে চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে লোকটা (ফাহিম) একজন কলেজ শিক্ষককে মারতে গিয়ে জনগণের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তার জন্য খালেদা জিয়ার এত মায়াকান্না কেন এটা আমার প্রশ্ন? মানে কী দাঁড়াচ্ছে? হাড়ির ভাত সিদ্ধ হচ্ছে কী না একটা টিপলেই বুঝা যায়। এই ঘটনা থেকেই বুঝা যায় গুপ্ত হত্যার সাথে তাদের (বিএনপি) একটা সম্পর্ক রয়েছে। প্রকাশ্যে মানুষ পুড়িয়ে তারা জনগণের রুদ্ধরোষের শিকার হয়েছে। এখন গুপ্ত পথে এসব ঘটনা ঘটিয়ে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। দেশের সাধারণ নাগরিকরা খালেদা জিয়ার বিচার করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোজা রমজানের দিনে আমরা ইফতার অনুষ্ঠানে গিয়ে আল্লাহ রসুলের নাম নিই। আর ওই মহিলা ইফতারে গিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন গীবত গাওয়া, মানুষের বদনাম করা আর মিথ্যা অসত্য কথা বলা, এটাই হচ্ছে তার চরিত্র। এর বেশি আমি বলতে চাই না।

শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বঙ্গবন্ধু সাটালআইট আমরা উৎক্ষাপণ করবো। আমরা বহু স্কুল সরকারী করণ করেছি, এমপিও ভুক্ত করেছি। খাদ্যে আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন আর কেউ না খেয়ে থাকে না। মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনা বাহিনী নৌবাহিনীসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে অনেক গুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সব বাহিনীকে আরো আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে। শ্রমিকদের উন্নয়নে আমরা শ্রমনীতি তৈরি করেছি। গার্মেন্টসসহ সব শ্রেণীর শ্রমিকের বেতনসহ সুযোগ সুবিধা বাড়ান হয়েছে। শেয়ার বাজারে দূর্নীতি দুর করতে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যুব সমাজকে পুজিবাজার সম্পর্কে শিক্ষা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। যাতে কেউ অবৈধভাবে পুজিবাজার আঘাত করতে না পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।  

১০ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে

এরআগে টেবিলে উত্থাপিত সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং বাংলাদেশের প্রধানতম শ্রম বাজারের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের ফলে দেশে ও বিদেশে মিলে গত সাত বছরে প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এতো কর্মসংস্থান  অতীতে আর কখনও হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন আমরা ২০০৯ এর সরকার গঠন করি সারা বিশ্ব ছিল তখন অর্থনৈতিক মন্দাগ্রস্থ। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ছিল মন্দা কবলিত। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৫ সালের নমিনাল জিডিপি’র ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৬তম এবং ক্রয়ক্ষমতা সমতার ভিত্তিতে ৩৪তম স্থান অধিকার করেছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

পুলিশ সফলতার পরিচয় দিয়েছে: বেগম আখতার জাহানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা বা সন্ত্রাসী হামলা সংক্রান্ত মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে সফলতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে জনগনের মাঝে আস্থার পরিবেশ তৈরী হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অতি সম্প্রতি দেশব্যাপী সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদে গ্রেফতার করে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। ইতিপুর্বে সন্ত্রাসী, নাশকতামুক, ধবংসাত্মক কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকান্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা কার্য়ক্রম অব্যাহত রয়েছে। নাশকতাকারী সন্ত্রাসীসহ সকল অপরাধীদের কর্মকান্ড রোধে তাদের অর্থের যোগানদাতা ও অর্থের উৎস সন্ধ্যান  করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। এছাড়া সন্ত্রাসী হামলা, অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মালা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনসহ রুজুকৃত মামলাসমুহ পুঙখানুপুঙখভাবে তদন্তপুর্বক বিচার কার্যক্রম গৃহীত হচ্ছে।

জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদ রোধে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: এমএ আউয়ালের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও যে কোন ধরণের অরাজকত রোধসহ জনগনের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইন শৃংখলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগনের মৌলিক ও মানবাধিকার  সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকার পুলিশসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সমূহকে নির্দেশ প্রদান করেছে। আর এ লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যেেম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

২০১৮ সালে পদ্মা সেতু খুলে দেয়া হবে: ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক  প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের সাহসী নেতৃত্ব ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে ফলেই  বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে এবং ২০১৮সাল নাগাদ এ সেতু যাববাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া সম্ভব হবে।


বিডি-প্রতিদিন/২৯ জুন ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow