Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৯ জুন, ২০১৬ ১৬:৪৮
আপডেট :
রপ্তানিতে কর কমিয়ে অর্থবিল পাস
নিজস্ব প্রতিবেদক

রপ্তানিতে কর কমিয়ে অর্থবিল পাস

তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যে রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে কর কাটার প্রস্তাব শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে স্থির করে এবং তথ্য-প্রযুক্তি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে সংসদের স্থিরকৃত আকারে অর্থবিল-২০১৬ বুধবার সংসদে পাস হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থবিলে ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল ও রসুন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক অব্যাহতির রেয়াত আগামী বছরও কার্যকর রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অর্থবিলে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক সুবিধার প্রসার, পোল্ট্রি খাতের পণ্যে রেয়াত সুবিধা, জীবন রক্ষাকারী ঔষধে শুল্ক প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু আথির্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে। আগামী ১ জুলাই নতুন অর্থবছরের শুরুতে এই বাজেট কার্যকর হবে। গত ২ জুন সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। একইসঙ্গে এই অর্থবিল উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।

ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অর্থ বিল পাস হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশান এরশাদের উপস্থিতি ছিলেন। এরআগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এরআগে অর্থমন্ত্রী আবদুল মাল আবদুল মুহিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংশোধনী প্রস্তাবসহ অর্থ বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করেছেন। তার এই প্রস্তাবকে আমি অনুশাসন মনে করি, কারণ আমি তার হয়েই কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, তার সব প্রস্তাবই গ্রহণ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে রপ্তানী খাতের উৎস করের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৭০ শতাংশ ধার্য করা হলো। অর্থ্যাৎ মাত্র ১০ পয়সা বাড়লো। যেখানে আগে ছিল ০.৬০ শতাংশ। এছাড়া পাট ও পাটজাত পন্য  ও  হিমায়িত দ্রব্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যামান ০.৬ শতাংশ উৎস কর ২০১৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।  পর্যটন শিল্পে সিপার ও যন্ত্রপাতিতে সীমিত রেয়াত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ঔষধ শিল্পের কতিপয় কাঁচামাল আমাদানিতে শুল্ক সুষম করা হবে। সিগারেটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উৎসকর অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন,  সিগারেটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উৎসকর অব্যাহত থাকবে।

বাজেট আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের রপ্তানি পণ্যে ওপর উৎসে করের পরিমাণ ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ৫৪ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার নেওয়ার প্রস্তাব করেন । সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বিলের ওপর কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করেন। তবে অর্থমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেননি। এছাড়া বিলের বিভিন্ন দফায় আনীত সংশোধনী প্রস্তাবও কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো গ্রহণ করে ‘সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনে আনীত অর্থবিল-২০১৬’ সংসদে পাস করার প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

অর্থমন্ত্রী বক্তৃতায় অন্যান্য খাতের বিষয়ে বলেন, রপ্তানীমুখী শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যামিকাল আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ ও স্পিনিং শিল্পের কাচাঁমাল ফ্লাস্ক ফাইবারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক শিল্পের কাঁচামাল সিলিকন আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা হবে। ই-কমার্সের সঠিক সংজ্ঞা দেয়া হবে,  মেডিকেল ও সার্জারি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের কাচাঁমাল আমদানিতে ৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা হবে। তবে জীবন বাচাঁনো ঔষধের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করছি। নির্মাণ খাতের উপরণ বিশেষ করে বাঁশ, রড ও এলুমনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে এর কাচাঁমাল আয়কন ও ফ্যারোয়েল ইত্যাদির শুল্ক সুষমভাবে হ্রাস করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অনুচ্ছেদ ২০১৩ এর তথ্য-প্রযুক্তিতে নিয়োজিত স্থাপনা ভাড়ার ওপর ৫৪ শতাংশ ভ্যাট সম্পূণরুপে অব্যাহতি দেয়া হলো। শিল্পখাতে বিদ্যমান মূলধনী যন্ত্রপাতির উপর ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক অব্যাহত রেখে আরো কতিপয় শিল্পের ক্ষেত্রে এই সুবিধা স¤প্রসারণ করা হবে। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানির আয়ের হিসাব বর্তমানে সার্বজনীন কর বছর জুলাই-জুন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তারা তাদের হিসাব তাদের দেশের কোম্পানীগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে রাখতে পারবে। অর্থমন্ত্রী বলেন,  প্রাকৃতিক রাবার তৈরিতে উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহার করা হয়েছে।  দেশে উৎপাদিত প্লাস্টিক পণ্যে ট্যারিফ মূল্য ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা, প্রণোদনা দেয়ার লক্ষ্যে চা উৎপাদনে প্রতি কেজি চায়ের ট্যারিফ মূল্য ১.৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১ কেজি তাজা ফুলের ট্যারিফ মূল্য ১ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হলো।


বিডি-প্রতিদিন/২৯ জুন ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow