Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ৩০ জুন, ২০১৬ ১৮:১০
আপডেট :
ব্যাংকিং সেক্টরের লুটপাট নিয়ে সংসদে ক্ষোভ; চিন্তিত অর্থমন্ত্রীও
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংকিং সেক্টরের লুটপাট নিয়ে সংসদে ক্ষোভ; চিন্তিত অর্থমন্ত্রীও

ব্যাংকিং সেক্টরের লুটপাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ব্যাংক সেক্টরে যে লুটপাট হচ্ছে এটা নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত এবং এটা যাতে না হয় তার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ হয়েছে এবং হচ্ছে।  

সংসদেও বাজেট অধিবেশনে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেট পাসের আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বরাদ্দকৃত অর্থের ছাটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন। এরআগে ছাটাই প্রস্তাবের বিরোধীতা করে ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপিরা। ছাটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম মিলন, নুরুল ইসলাম ওমর, সেলিম উদ্দিন। এছাড়াও স্বতন্ত্র সদস্য মো. রুন্তম আলী ফরাজী এবং মো. আব্দুল মতিন বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ব্যাংক হচ্ছে লুটপাটের আঁধার। লুটপাট হবে আর আমরা টাকা দিয়ে যাবো এটা হবে না। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেরা টাকা জোগার করে দেন না। এখন ছিনতাইকারীরা রাস্তায় ছিনতাই করে না। সমস্ত ছিনতাই হয় এখন ব্যাংকে।

নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, টাকা দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, আগে ব্যাংকিং খাতে শৃক্সখলা আনা দরকার। যে টাকা লুটপাট হয়েছে, পাচার হয়েছে। সেই টাকা আনার জন্য জাতিকে আশ্বস্ত করবেন কি না?

এমপিদের এমন সমালোচনায় জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন,  যেসব ছাঁটাই প্রস্তাব এসেছে, প্রস্তাবকরা সবাই ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে সেই সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ এবং কনসার্ন এক্সপ্রেস করেছেন। সেজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ব্যাংক সেক্টরে যে লুটপাট হচ্ছে এটা নিয়ে আমিও খুবই চিন্তিত এবং এটা যাতে না হয় তার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদে¶প গ্রহণ হয়েছে এবং হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা টাকার দায়িত্ব গ্রহণ করি। কারণ এই টাকাটা গরীব জনগণেরও হতে পারে। আবার ধনী জনগণের হতেও পারে। এমন হলে তাদের অসুবিধা হয়। তাদের অসুবিধা রাষ্ট্র করতে পারে না। এজন্য রাষ্ট্র এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং করছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা তদন্ত চালাচ্ছি এবং তদন্তের পরে মামলাও হচ্ছে। দুদকে বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে সবগুলো মামলা এখনো হয়নি। এই রিপোর্টটা দুদকের কাছে আছে। আস্তে আস্তে মামলা হচ্ছে। যেসব লোকের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছে তাদের সবাইকেই দুদক মামলায় সোপর্দ করবে।


বিডি-প্রতিদিন/ ৩০ জুন, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow