Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ১০:১২
আপডেট : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ১১:০০
ভারতীয় হাতি নিয়ে বিপাকে বনবিভাগ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
ভারতীয় হাতি নিয়ে বিপাকে বনবিভাগ

বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে আসা বন্য হাতিটি নিয়ে বেশ বিপাকেই আছে বনবিভাগ। প্রায় এক মাস ধরে হাতিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়ালেও এটিকে উদ্ধারে কোন কূলকিনারা করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে হাতিটি বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা ঘুরে, ফসলের ক্ষতি করে গত মঙ্গলবার অবস্থান নিয়েছে সিরাজগঞ্জের মনসুরনগর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল চরছিন্না এলাকায়। হাতিটির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা।

গত ২৬ জুন কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ভেসে আসে ভারতীয় হাতিটি। পরে রৌমারী হয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকা হয়ে গত মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের মনসুরনগর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল চরছিন্না এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। প্রায় একমাস ধরে নদীতে সাঁতার কাটছে হাতিটি। মাঝে মাঝে ব্রহ্মপুত্রের চরগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। খাবারের জন্য ঢুকে পড়ছে চরএলাকার লোকালয়ে।

গতকাল শুক্রবার অজ্ঞান করার জন্য ট্যাংকুলাইজার মেশিনসহ চরছিন্না এলাকায় যায় বন বিভাগের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। তবে এখন পর্যন্ত তারা হাতিটি উদ্ধারের ব্যাপারে তেমন কোন সুখবর দিতে পারেননি। প্রতিনিধিদলের প্রধান বন্য প্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ''আমরা এখন সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি। অজ্ঞান করার জন্য ট্যাংকুলাইজার মেশিন আনা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলে হাতিটি অবস্থান করায় অজ্ঞান করার পর এটিকে নিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে নদীর কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারলে জাহাজে করে বহন করা সম্ভব হবে। ''

তিনি জানান, ভারতীয় বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আসলে হাতিটি তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এটা আমাদের তত্ত্বাবধানে থাকবে। অন্যথা হাতিটি উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। তবে কতক্ষণে হাতিটি উদ্ধার বা ভারতের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

এদিকে হাতিটি উদ্ধারে সর্বশেষ ভারতের কেন্দ্রীয় বন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ বন সংরক্ষকের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারত জানিয়েছে দুয়েক দিনের মধ্যে ভারত থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওই হাতিটি উদ্ধারে আসতে পারে। এর আগে গত সপ্তাহে আসামের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ বিভাগ) বিকাশ ব্রহ্ম জানিয়েছিলেন, আমরা সরকারের চূড়ান্ত অনুমতি, ভিসা প্রভৃতির জন্য অপেক্ষা করছি। সেসব হয়ে গেলেই তিনজন হস্তি বিশেষজ্ঞকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow