Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৯:১৯
কে এই জঙ্গি করিম
অনলাইন ডেস্ক
কে এই জঙ্গি করিম
ছবি: সংগৃহীত

শনিবার রাতে রাজধানীর আজিমপুরে বিশেষ অভিযানে আবদুল করিম নামে সন্দেহভাজন আরও এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে কে এই করিম।

 

অভিযানের পরই পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এই করিমই গুলশানের হলি আর্টিজান, শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা, কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানাসহ জঙ্গিদের বাসা ভাড়া নেওয়ার মূল হোতা। এই করিমই জঙ্গিদের জন্য বিভিন্নস্থানে বাসা ভাড়া নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুলশানের ঘটনায় জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা বাড়ির মালিক করিম নামে যাকে খুঁজছিল পুলিশ, আজকে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার চেহারার অনেকটা মিল রয়েছে।  

পুলিশের একটি সূূত্র জানায়, জঙ্গি করিমের প্রকৃত নাম জামসেদ ওরফে তানভীর। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। আজিমপুরের ঐ আস্তানাটি নারী জঙ্গিদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। নিজেকে ব্যবসায়ী জামশেদ পরিচয়ে ১ আগস্ট ১৮ হাজার টাকায় ১০৯/৭ নম্বর বাসাটি ভাড়া নেন করিম। বাড়ির মালিকের নাম কায়সার।  

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আবদুল করিমের স্ত্রীও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন বলে ধারণা পুলিশের। এর আগে ভাটারা, কল্যাণপুর ও শোলাকিয়ায় এই করিমই স্ত্রী, দুই সন্তানসহ বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। সামান্য কিছু আসবাবপত্র নিয়ে বাসায় ওঠেন তিনি। পরে জঙ্গিরা ওই বাসায় অবস্থান নেওয়ার পর করিম পরিবার নিয়ে অন্যত্র সটকে পড়েন। গুলশান হামলার পর থেকে তাকে ধরতে জোর তত্পরতা চালাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।  

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, এ পরিবারটি একসঙ্গে একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে রেখেছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এসব বাসার কয়েকটিতে অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে তাদের পাওয়া যায়নি। বাড়িওয়ালা তাদের জানিয়েছেন, তাদের না জানিয়েই ভাড়াটিয়ারা কোথাও চলে গিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব বাসায় ভারী কোনো আসবাবপত্র নেই। কোনোরকমে ঘুমানোর জন্য কিছু তোশক-বিছানাপত্র ও রান্নার জন্য হাঁড়ি-পাতিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কোনো ডকুমেন্টসও পাওয়া যায়নি এসব আস্তানায়।  

সিটির কর্মকর্তারা জানান, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই আবদুল করিম বাসা ভাড়া নিতেন। তার সংসারের খরচের টাকাও দেওয়া হয় সংগঠন থেকে। তার কাজই কেবল দম্পতি পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা তৈরিতে সহায়তা করা। সংশ্লিষ্টরা জানান, করিমের মাধ্যমেই তার স্ত্রী জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ৮-১০ বছর বয়সী তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে।

 

বিডি প্রতিদিন/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬/হিমেল-০৫

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow