Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:২২
স্কুলছাত্রের চিঠির জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
স্কুলছাত্রের চিঠির জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পটুয়াখালীর এক স্কুলছাত্রের লেখা চিঠির জবাব দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী ওই ছাত্রের চাওয়া অনুযায়ী তার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে পায়রা নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত ১৫ আগস্ট পটুয়াখালী গভ. জুবিলী হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি লিখেছিল। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পর পাল্টা চিঠি তার স্কুলে পৌঁছায় গত ২০ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী ওই চিঠির জবাবে বলেন, শীর্ষেন্দুর চিঠি পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। নৌকায় নদী পার হবার ঝুঁকি নিয়ে ছেলেটির উদ্বেগের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মির্জাগঞ্জের পায়রা নদী যে অত্যন্ত খরস্রোতা সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। শীর্ষেন্দুকে ওই নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে শীর্ষেন্দু জানায়, সে বাংলাদেশের একজন নাগরিক। তার বাবার নাম বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এবং মায়ের নাম শীলা রাণী সন্নামত। ''আমি পটুয়াখালী গভ. হাই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। আমার দাদু অবিনাস সন্নামত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ''

শীর্ষেন্দু আরও জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর শৈশবকাল নিয়ে রচনা লিখে সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। ''আমাদের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। আমাদের মির্জাগঞ্জ নদী পার হয়ে যেতে হয়... ওই নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ... কখনো নৌকা ডুবে যায়, কখনো কখনো ট্রলার ডুবে যায়। '' ছেলেটি জানায়, এসব দুর্ঘটনায় অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এবং সে তার বাবা-মাকে হারাতে চায় না। কারণ সে তাদের খুব ভালোবাসে। ''তাই আমাদের জন্য মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি ব্রিজ তৈরির ব্যবস্থা করুন,'' চিঠির শেষে এই কথা লিখে শীর্ষেন্দু।

শীর্ষেন্দু গণমাধ্যমকে জানায়, ১৫ আগস্ট সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে এবং ডাকযোগে পাঠায়। শীর্ষেন্দু তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা পটুয়াখালী শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং মা সমাজকল্যাণ দপ্তরে কাজ করেন। শহরের পুরানবাজার এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে থাকেন তারা। শীর্ষেন্দুর বাবা বিশ্বজিৎ বলেন, তাকে নিয়ে আমরা খুব গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী তার চিঠির জবাব দিয়েছেন বলে আমরা আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীর লেখা চিঠি আগামীকাল শীর্ষেন্দুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী গভ. হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান।

বিডি-প্রতিদিন/২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow