Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৪৪
সড়কে প্রাণহানির দায় আমার, সংসদে ওবায়দুল কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
সড়কে প্রাণহানির দায় আমার, সংসদে ওবায়দুল কাদের
ফাইল ছবি

ঈদের পর এ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যেভাবে পাখির মতো মানুষ মারা গেছে তা সরকারের পক্ষ থেকে আমি সে দায় স্বীকার করে নিয়েছি। যদিও আমি চালকও নই মালিকও নই। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে আমি দায় নিয়েছি। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।

সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে রবিবার জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের ও কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দায় স্বীকার করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকশ’ মানুষ মারা যায়নি, ''১৫৩ জন মারা গেছেন। তারপরও আমি বলি একজন মানুষের মৃত্যুও কাম্য নয়। আসলে সমস্যা হয়ে গেছে কার ঘাড়ে দোষ চাপাবো। '' তিনি বলেন, ঈদের সময় ওভার টেকিং, ওভার স্পিড, এমনকি থাকে ওভার লোডিংও। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে আমি দায় নিয়েছি।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, এক সময় বলা হতো যদি মরতে চাও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাও। এখন এই সড়কে সে সমস্যা নেই। সে কারণে এবার ঈদে এতো লোক মারা গেছে কিন্তু তারপরও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।    

সম্পূরক প্রশ্নে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, বাসের কোনো লাইসেন্স নাই, ফিটনেসও নাই, চালকেরও কোনো লাইসেন্স নাই। আসলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কী করছেন মন্ত্রী বলবেন কী? এর জবাবে সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমরা এটা নিয়ে সমন্বিতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আইনের দিক থেকেও চেষ্টা করছি। সড়ক পরিবহন আইন আরও কঠোর শাস্তির বিধান করে পরিবার প্রতি গাড়ির সংখ্যা সীমিত করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যাতে দুর্ঘটনার জন্যে যে দায়ী থাকবে তাকে শাস্তি দেওয়া যায়। মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে (রবিবার) বিলটি উত্থাপন করা হবে। আশা করছি চলতি অধিবেশনে না হলেও পরবর্তী অধিবেশনে পাস করতে পারবো।

মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পট ২২৭টি  

কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মিলন ও মহিলা আসনের (৩০) সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার সমীক্ষার মাধ্যমে মোট ২২৭টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান (ব্ল্যাক স্পট) চিহিৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সরকার কারণ নির্ণয়পূর্বক বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সমূহ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সমীক্ষার মাধ্যমে মোট ২২৭টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহিৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মহাসড়কের ৬৮টি ব্ল্যাক স্পটস-এর প্রতিকারমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ১৫টি ব্ল্যাক স্পটস-এ প্রতিকারমূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৪৪টি ব্ল্যাক স্পটস-এর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব রোড সেফটি এ্যাট ব্ল্যাক স্পটস অন ন্যাশনাল হাইওয়েজ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৮টি ব্ল্যাক স্পটের প্রতিকারমূলক কাজ করা হয়েছে। চলমান ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অবশিষ্ট ৭০টি ব্ল্যাক স্পটের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পন্ন হবে। এজন্য ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জানান, জাতীয় মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে ধীরগতি যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ৪ লেনে উন্নীতকরণের নিমিত্তে এক হাজার ৭৫২ কিলোমিটার মহাসড়কের ফিজিভিলিটি স্টাডি ও ডিটেইল্ড ডিজাইনের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। আরও ৬শ’ কিলোমিটার সড়ক ধীরগতি যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ৪ লেনে উন্নীতকারণের নিমিত্তে ফিজিভিলিটি স্টাডি ও ডিটেইল্ড ডিজাইনের কাজ চলমান আছে।

তিনি আরো জানান, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চারলেন, সাসেস্ক-২ প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গা হতে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, ঢাকা-খুলনা (এন-৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ি ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চর-ভাঙ্গা অংশে যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ৪ লেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

ঢাকার যানজট মোকাবেলাই বড় চ্যালেঞ্জ

জাসদ সংসদ সদস্য শিরিন আখতারের (ফেনী-২) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজধানী ঢাকার যানজট এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন যানজট বড় ধরনের দুঃশ্চিন্তা। যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এটা এখন চ্যালেঞ্জের বিষয়।

তিনি জানান, এককভাবে এ সমস্যার সমাধান হবে না। অনেক চেষ্টা করেও এ সমস্যার সমাধান করতে পারিনি। ঢাকায় মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার হচ্ছে। আগামী ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে এ অবকাঠামগুলো প্রস্তুত হবে। তখন সমস্যা নিরসন হবে বলে আশা করছি।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, রাস্তায় চলতে গিয়ে যানজটের সঙ্গে যানজট হচ্ছে। একশ গাড়ির সঙ্গে ১০০ লোক রাস্তায় নেমে যাচ্ছে। নিয়ম না মানলে সমস্যা হবেই। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তাই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে একটু সময় লাগবে। ঢাকা শহরে ৫০ হাজার ছোট গাড়ির লাইসেন্স আছে, কিন্তু ২০ লাখের উপরে ছোট যানবাহন চলাচল করে। মুমূর্ষু রোগী নিয়েও দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয় না।

বিডি-প্রতিদিন/২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow