Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১০:৫৮
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:৫৫
চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ঢাকা
অনলাইন ডেস্ক
চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ঢাকা
শি জিনপিং

৩০ বছর পর ২২০ জন প্রতিনিধি নিয়ে ২২ ঘণ্টার এক ঝটিকা সফরে আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অভ্যার্থনা জানাবেন। এছাড়া বাংলাদেশের আকাশ সীমায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের দুটি জেট চীনের প্রেসিডেন্টের বিমানকে স্কট করে নিয়ে আসবে।

সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। শনিবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট ভারতের গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

তার আগে শুক্রবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও দেখা করবেন শি জিনপিং।

আর জিনপিংয়ের এই সফরে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন দুই দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ অন্যান্য খাতে ‘নিবিড় সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

অন্যদিকে চীনের সামাজিক বিজ্ঞান একাডেমির দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক ইয়ে হেলিন ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নির্মাণে চীনের প্রস্তাব দেয়ার আগে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে চীন-বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ। চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফর ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের সহযোগিতা ও অংশীদারি অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করবে বলে প্রত্যাশা করছে ঢাকা-বেইজিং। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ঋণ-সহায়তার চুক্তি হতে পারে এ সফরে। টাকার অঙ্কে চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের এই ঋণ বাংলাদেশের চলতি বাজেটের সমান। শুধু তা-ই নয়, সফরে কমপক্ষে ২০টি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে দুই দেশ। এর অর্ধেক ঋণ সহযোগিতা ও অর্ধেক হবে নীতিবিষয়ক। প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত। চীন থেকেই আসবে বিশাল বিনিয়োগ। সুযোগ তৈরি হতে পারে চীনের অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির সরাসরি সংযোগের। এ ছাড়া আঞ্চলিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরে বিশেষ বার্তা থাকবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

বিডি প্রতিদিন/১৪ অক্টোবর ২০১৬/ এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow