Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১০:২১
বরিশালে বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট
দারিদ্র্য বিমোচনে অতিরিক্ত অর্থ সাহায্য দেবে বিশ্বব্যাংক
রাহাত খান, বরিশাল
দারিদ্র্য বিমোচনে অতিরিক্ত অর্থ সাহায্য দেবে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনে আরো অর্থ সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. জিম ইয়ং কিম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তথা বরিশালের গ্রামীণ নারীরা বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফ (স্যোসাল ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন) থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

এটা দেখে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ আগে অতি দারিদ্র্য ছিল, তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারতো না। বিশ্বব্যাংক তাদের বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সাবলম্বী করেছে। এখন তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে। তারা এখন ভালোর দিকে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফ থেকে ঋণ নিয়ে সাবলম্বী হওয়া নারীদের সাথে মতবিনিময় এবং আত্মকর্মসংস্থানমূলক গরু-হাঁস-মুরগী পালন, মাছ ও সবজী চাষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিদর্শন করেন। পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট।

সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা খুবই পরিশ্রমী, তারা কাজ করতে জানে। তারা সহজে পিছিয়ে পড়েন না। এদের জীবন মানের উন্নতি দেখে বিশ্বব্যাংক খুবই খুশি। তাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বিশ্বব্যাংক অতিরিক্ত অর্থায়ন করবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংক তাদের আরও অগ্রগতি দেখতে চায়। এ সময় উন্নয়ন সংস্থা এসডিএফ’র চেয়ারম্যান সাবেক অর্থ সচিব এম.আই. চৌধুরীসহ বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রাম পরিদর্শন শেষে তিনি পার্শ্ববর্তী উপজেলা উজিরপুরের বামরাইল ইউনিয়নের ভরসাকাঠী গ্রামে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ভরসাকাঠী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে আপদকালীন সময়ের জন্য নির্মিত প্রসূতি কক্ষ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র কাম স্কুল ভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে স্কুল চত্বরে একটি গাছের চারা রোপন করেন জিম ইয়ং কিম।

পরে তিনি একই গ্রামে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় সোলার হোম সিস্টেম প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বাড়ি পরিদর্শন করেন। বিদ্যুৎবিহীন এই গ্রামের প্রায় ৩শ’ পরিবার সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের জীবন মানের যে উন্নয়ন করেছেন, তা প্রত্যক্ষ করেন ড. কিম। এ সময় সুবিধাভোগীরা ড. জিম ইয়ং কিমকে বলেন, আগে তারা সন্ধ্যার পর অন্ধকারে বসবাস করতেন। এতে তাদের খেলাপড়া এবং গৃহস্থালী কাজকর্মে নানা অসুুবিধা হতো। তবে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সোলার হোম সিস্টেম পেয়ে এখন তারা আলোকিত হয়েছেন। লেখাপড়া এবং সাংসারিক কাজকর্মে এখন তাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।

ভরসাকাঠী গ্রাম পরিদর্শনের সময় সেখানে স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের বরিশাল পরিদর্শনের বিষয়ে স্থানীয় এমপি তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র যে শুধু আশ্রয়ের জন্য নয়, সেখানে যে শত শত শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে, সেখানে যে আপদকালীন সময়ের জন্য প্রসূতি কেন্দ্র রয়েছে এবং সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে যে গ্রামীণ জনপদের মানুষ উন্নত জীবন পেয়েছে, এসব দেখে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট খুশি হয়েছেন। বিশ্বব্যাংক এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে এই এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি।  

এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টায় একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল বিমান বন্দরে অবতরন করেন জিম ইয়ং কিম। সেখান থেকে তিনি সড়ক পথে সরাসরি বাবুগঞ্জের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং সুবিধাভোগী নারীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

পরে তিনি উজিরপুরের ভরসাকাঠী গ্রামে বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এদিকে, জিম ইয়ং কিমের বরিশাল সফর উপলক্ষে তার যাতায়াত পথ এবং পরিদর্শনস্থানগুলো নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি, র‌্যাব, এসএসএফ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকধারী সদস্যরা তার সফলকালীন সময়ে ছিলেন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়।

২০১২ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রথমে বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় এবং পরবর্তীতে বানারীপাড়া, উজিরপুর ও মুলাদী উপজেলার মোট ৩০০ গ্রামে পিছিয়ে পড়া নারীদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে বেসরকারী এসডিএফ।


বিডি-প্রতিদিন/১৮ অক্টোবর, ২০১৬/রশিদা/এনায়েত/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow