Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:১৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
ইয়াবা নিয়ে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গা
এস.আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার):
ইয়াবা নিয়ে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গা
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রহরায় বিজিবি (ফাইল ছবি)

এখনও চলছে বাংলাদেশমুখি রোহিঙ্গাস্রোত। উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিনই অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সহিংসতার পর থেকে এ অনুপ্রবেশ বেড়েছে আশংকাজনক হারে। আর এসব রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের সময় সঙ্গে নিয়ে আসছে জীবনঘাতি মাদক ইয়াবা। রাতের অন্ধকারে বিজিবির চোখে ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পার হয়ে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং এবং টেকনাফের লেদায় নতুন রোহিঙ্গা বস্তিতে ঢুকে পড়ছে এসব অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাবোঝাই ছোট নৌকাগুলোর পাশাপাশি ইয়াবা ও অন্যান্য চোরাইপণ্য বহনকারী নৌকা ও ট্রলার প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ঢুকছে। কিছু চালান বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে। তবে বেশিরভাগ চালান টেকনাফ-উখিয়া হয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান নিত্যনতুন কৌশলে টেকনাফের নাফ নদী হয়ে খারাংগ্যাঘোনা, লম্বাবিল, কাঞ্জরপাড়া, ঝিমংখালী, নয়াবাজার, খারাংখালী, মৌলভীবাজার, হ্নীলা, আলীখালী, লেদা, নয়াপাড়া, জাদীমুরা, দমদমিয়া, জালিয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, নাইট্যংপাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু, আমতলি, ফাত্রাঝিরি, মনজয়পাড়া, বরইতলি, উখিয়া উপজেলার থাইংখালীর রাহমতের বিল ও পালংখালীর বটতলী, রাজাপালং এর চাকবৈঠা, ডেইলপাড়া পয়েন্ট দিয়ে দেশে ঢুকছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই দেশের পেশাদার চোরাকারবারীরা জেলের ছদ্মবেশে নাফ নদীতে অবস্থান নেয়। তাদের নৌকায় মাছ ধরার উপকরণ মজুদ থাকায় অনেক সময় তারা কোস্টগার্ড ও বিজিবির টহল দলের নজর এড়িয়ে যেতে পারে।
 
বিজিবি সূত্র জানায়, ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় টেকনাফের জাদিমুড়া ও ওমরখিলের মাঝামাঝি নাফ নদী সীমান্ত থেকে ৮৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। এসময় ইয়াবা বহনকারী দুই যুবক নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে চলে যায়। এর আগে ২ ডিসেম্বর সীমান্তবর্তী টেকনাফ এবং উখিয়ায় কোস্টগার্ড ও বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই লাখ ২১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় ইয়াবা পাচারে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় ১৬ জনকে যাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। গত নভেম্বর মাসে নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ২৩৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। ওইসময় আটক করা হয় ২৮ জনকে। এসব ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ৩৩ জনকে অভিযুক্ত আসামি করে মোট ৪২টি মামলা দায়ের হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করা মানেই অপরাধের দিকে ধাবিত হওয়া। তারা মিয়ানমার থেকে আসার সময় ইয়াবা নিয়ে আসে। আর এখানে এসে এদের অধিকাংশ জঙ্গি গোষ্ঠীতে সম্পৃক্ত হয়। বাকিরা নানান অপরাধ করে বেড়ায়।
    
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ জানান, সীমান্তে বিজিবি টহল দিলেও অনেকাংশে কাদামাটি থাকায় সেখানে নামা সম্ভব হয় না। রোহিঙ্গা ও চোরাকারবারীরা এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এখানে কাঁটাতারের বেড়া না থাকার সুযোগও নিয়ে থাকে তারা। বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, ইয়াবা আসে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে। এসব ইয়াবার অধিকাংশ বাহককে আটক করা সম্ভব হয় না। কারণ তারা বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেলেই নাফ নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে বাংলাদেশের সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে চলে যায়।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow