Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৮ অনলাইন ভার্সন
মিয়ানমারে যাচ্ছে নিত্যপণ্য, আসছে মাদক
এস. আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার):
মিয়ানমারে যাচ্ছে নিত্যপণ্য, আসছে মাদক
পাচারের উদ্দেশ্যে চান্দের গাড়িতে তোলা হচ্ছে নিত্যপন্য

উখিয়া সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্টে চোরাচালান চক্র হঠাৎ যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কতিপয় দালাল সিন্ডিকেটের সক্রিয় সহযোগিতায় বানের পানির মত মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলসহ পিঁয়াজ, রসুন, গরম মসল্লা থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্য পণ্য।

বিনিময়ে এদেশে পাচার হয়ে আসছে ইয়াবা, বিয়ার, রাম, ম্যান্ডেলা, ড্রাইজিন সহ বিভিন্ন প্রকার বোতলজাত মাদকদ্রব্য।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ছোটখাট মাদকের চালান আটক হলেও এপার থেকে যে সমস্ত পণ্য ওপারে পাচার হচ্ছে সেগুলো আটক হচ্ছে না। ফলে সীমান্তে নিত্যপণ্য পাচারের ধারাবাহিকতা ঠেকানো যাচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় গুটি কয়েক চিহ্নিত পাচারকারিকেও যদি আটক করতে পারতো তাহলে চোরাইপণ্য লেনদেন অনেকটাই কমে যেত।

জানা গেছে, উখিয়ার চাকবৈঠা, ডেইলপাড়া, পূর্ব ডিগলিয়া, পশ্চিম ডিগলিয়া, তুলাতলি, আমতলী, জাম্বুনিয়া, ঘুমধুম, তুমব্রু, বালুখালী, পানবাজার, রহমতের বিল, নলবনিয়া, থাইংখালী, পালংখালী, আনজুমানপাড়া, ধামনখালী, বটতলীসহ প্রায় ২৫টি পয়েন্ট দিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতার নাম ভাঙিয়ে প্রতি সপ্তাহে কয়েক লাখ লাখ টাকার নিত্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে। সীমান্তের জাম্বুনিয়া এলাকার ব্যবসায়ী শহর আলী, ফজর রহমানসহ একাধিক জন জানান, ১৮/২০ জনের একদল পাচারকারি সিন্ডিকেট গ্রামগঞ্জের দোকানে খুচরা বিক্রির নাম ভাঙিয়ে কোটবাজার, উখিয়া ও পালংখালী থেকে নিত্যপণ্য সংগ্রহ করে তাদের বাড়িতে গুদামজাত করে। পরে সীমান্তে বিজিবি’র গতিবিধি লক্ষ্য করে চোরাচালান চক্র এসব মালামাল নাফ নদী পার দিচ্ছে। অনেক সময় সামনে পড়লেও নিত্যপন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছে মনে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরছে না। এদিকে ওইসব পন্য মিয়ানমারে পাচার করে বিনিময়ে সেখান থেকে নিয়ে আসছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদেশীয় টাকার চাইতে মিয়ানমারের টাকার মান অনেক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের বদলে পণ্য বিনিময় করে থাকে। এতে এদেশীয় পণ্য পাচারের বিপরীতে মিয়ানমারের মাদক দ্রব্য নিয়ে আসতে পারলে পাচারকারিরা অনেক বেশি লাভবান হয়। তাই তারা ভোগ্যপন্য পাঠিয়ে মাদক নিয়ে আসেন।

সম্প্রতি ধামনখালী বিজিবি’র সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা মূল্যমানের ৯ হাজার প্যাকেট মার্বেল সিগারেট ও ২৬৪ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করেছে বলে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র সহকারি পরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিত্যপণ্য পাচারের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, তারা ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বোতলজাতীয় মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে প্রায় শতাধিক পাচারকারিকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। নিত্যপণ্য পাচারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না পাওয়ার কারণে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow