Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১ মার্চ, ২০১৭ ১৭:৩৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১ মার্চ, ২০১৭ ২০:০১
জঙ্গিবাদের পথ ছাড়লে পুনর্বাসন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গিবাদের পথ ছাড়লে পুনর্বাসন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিরা জঙ্গিবাদের পথ পরিহার করলে আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন করা হবে। একইসঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারোধে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যায় ডিজিটাল তদারকি সিস্টেমের আওতাভুক্ত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের চতুর্দশ ও শীতকালীন অধিবেশনে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত কামাল আহমেদ মজুমদারের (ঢাকা-১৫) ও মোরশেদ আলমের নোয়াখালী-২) প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

কামাল আহমেদ মজুমদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিদমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে যেসকল বিপদগামী জঙ্গিসদস্য জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরে আসবে তাদেরকে আইনি সহায়তা প্রদানসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে। দেশের মানুষের সুষম উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ হুমকিস্বরূপ। সরকার জঙ্গিবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এজন্য জঙ্গিদমনে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণার দিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার জন্য একটি যুগোপযোগী স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি প্রক্রিয়াধীন। এ সময় তিনি জানান, জঙ্গিবাদ বিরোধী ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, মসজিদের ইমাম, আলেম সমাজ, শিক্ষক-ছাত্র সমাজ, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল তদারকি

মোরশেদ আলমের (নোয়াখালী-২) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের (বিডিআরইএন) আওতায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল তদারকি সিস্টেমের আওতাভূক্ত হবে। তিনি আরও জানান, বিডিআরইএন’র মাধ্যমে পাইলট ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সিসি ক্যামেরা ও একসেস কন্ট্রোল ডিভাইস স্থাপন করা হচ্ছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনারোধে এ ব্যবস্থা কার্যকর প্রমাণিত হলে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, সরকার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে ২ হাজার ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন ও বহির্বিশ্বের শিক্ষা ও গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিআরইএন) স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় সারা দেশে ৩ হাজার কিলোমিটার ওভারহেড অপটিক্যাল গ্রাউন্ড ওয়্যার (ওপিজিডব্লিও) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরে সংযুক্ত করার জন্য ৪২টি পয়েন্ট টু পয়েন্ট অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কানেক্টিভিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা হাই স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে পারছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বছরে ১৬১৮ জনের কারাদণ্ড

কামরুল আশরাফ খানের (নরসিংদী-২) এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত (৩ বছর) ৯৫ হাজার ৫৭৯টি মামলার মাধ্যমে মোট ৮ কোটি ৪৯ লাখ ২৬ হাজার ৯১২ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময়ে এক হাজার ৬১৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান এবং ৪ হাজার ৪৮টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে প্রেরণ করা হয়েছে।

দেশের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সমীক্ষার মাধ্যমে মোট ২২৭ টি দুর্ঘটনা প্রবণ (ব্ল্যাক স্পট) স্থান চিহিৃত করা হয়েছে। তন্মধ্যে ২৭টি স্পট-এর প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

বিডি-প্রতিদিন/০১ মার্চ, ২০১৭/সালাহউদ্দিন/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow