Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৪:১৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:০৭
মাদক পাচারে নিত্যনতুন কৌশল
বাকপ্রতিবন্ধীদের মাধ্যমেও পাচার করা হচ্ছে ইয়াবা
সাঈদুর রহমান রিমন
বাকপ্রতিবন্ধীদের মাধ্যমেও পাচার করা হচ্ছে ইয়াবা

নিত্যনতুন কৌশলে পাচার হয়ে আসা মাদকদ্রব্য ধরতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। সোর্সের মাধ্যমে মাদক পাচারের নিশ্চিত খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়েও র‌্যাব-পুলিশ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারছেন না। ইদানীং বাকপ্রতিবন্ধীদের (বোবা) মাধ্যমেও পাচার করা হচ্ছে ইয়াবা। এতে ইয়াবাসহ বোবারা ধরা পড়লেও তারা মূল মাদক ব্যবসায়ীর নাম-পরিচয় কিছুই জানাতে পারে না, দিতে পারে না স্বীকারোক্তিমূলক কোনো জবানবন্দি। তাছাড়া গাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্টিকার সেঁটে পাচার করা হচ্ছে ইয়াবা। মাদক পাচারকারীদের নিত্যনতুন কৌশলগুলো আবিষ্কারের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা তৎরতা কিছুটা সফল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

তারা জানান, অতিরিক্ত সোর্স নিয়োগ, ছদ্মবেশ ধারণ, মাদক সংগ্রহের মূল ঘাঁটিগুলো পর্যবেক্ষণ করে এরই মধ্যে ২০-২২টি নতুন কৌশলের সন্ধান পাওয়া গেছে। ইয়াবার থাবা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যেমন বাড়ছে, তেমন পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে পাচারকারীদের কলাকৌশল। গরুর পেটে অপারেশন করে মাদক রেখে পাচারের ঘটনা ঘটেছে অতীতে। এখন স্কচটেপ পেঁচানো ইয়াবা কলার মধ্যে ঢুকিয়ে সে কলা গিলে খাচ্ছে পাচারকারীরা। তারপর চরম ঝুঁকিপূর্ণ কায়দায় পেটের মধ্যে ইয়াবা পাচার করছে তারা। এ কৌশলে অতিসম্প্রতি দুই নারী তাদের পেটে এক হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবা নিয়ে টেকনাফ থেকে ঢাকায় পৌঁছেও শেষ রক্ষা হয়নি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা তাদের আটক করে দুই দিন ধরে হাসপাতালে রেখে নানা কসরতে পায়খানার সঙ্গে ৭৪টি ইয়াবার প্যাকেট বের করে আনতে সক্ষম হন। প্রশাসনিক এতসব তৎপরতার মুখেও মাদক পাচারকারীদের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকছে। কখনো মাথায় নকল চুলের ভাঁজে, পায়ুপথে, মাছের পেটে, মসলার প্যাকেটে, ডাবের মধ্যে ও শুকনা মরিচের ভিতর লুকিয়ে মাদক পাচার হয়। পঙ্গু ব্যক্তিদের ব্যবহার করা স্টিল পাইপ দ্বারা প্রস্তুতকৃত বিশেষ ক্রাচের (লাঠি) ভিতরে, কখনো মৃত মানুষের কফিনে, মোবাইল সেট, আবার কখনো বা আবেদনময়ী যুবতীর পাকস্থলিতে মাদক বহন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। কুমড়া কিংবা লাউয়ের খোলস, সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডার, এয়ারকুলার, কম্পিউটারের মনিটর ও সিপিইউর ভিতর ভরে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে ইয়াবা। ফলমূল, মাছ ও শুঁটকির প্যাকেট, পান ও বরইয়ের বস্তা, মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, গাড়ির টায়ারে, সিটের নিচে, নারী বাসযাত্রীর জুতার ভিতর এমনকি পাচারকারীদের পেট থেকেও পলিথিন মোড়ানো ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের বহু ঘটনা ঘটছে।

বিডি-প্রতিদিন/২২ জানুয়ারি, ২০১৮/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow