Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:৩৪ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৬
আজ খালেদার জামিন শুনানিতে যা বলেন আইনজীবীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ খালেদার জামিন শুনানিতে যা বলেন আইনজীবীরা
ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু করতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে এজলাস কক্ষে প্রবেশ করেন। কিন্তু আইনজীবীদের অতিরিক্ত উপস্থিতিতে বিচারকদ্বয় এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। 

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এমনটি হলে আমরা কীভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করবো।’ জয়নুল আবেদীন জবাবে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এ মামলার প্রতি দেশবাসীর আগ্রহ আছে, আইনজীবীদেরও আগ্রহ আছে।’ এ সময় অপর বিচারপতি সহিদুল করিম বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’ আদালত এ সময় বলেন, ‘আপনারা ঠিক করেন, আমরা ১০ মিনিট পর আবার বসবো।’

পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির শুরু করেন। প্রথমে তিনি এই আবেদনের পক্ষে থাকা আইনজীবীদের আদালতের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে তিনি বলেন মূল আবেদনের শুনানি করবেন জেষ্ঠ্য আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী। এরপর এজে মোহাম্মদ আলী শুনানি শুরু করেন।

শুনানিতে খালেদার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জেষ্ঠ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট মীর নাসির, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমূখ। দুদকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান ও অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও মির্জা আব্বাস, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, খায়রুল কবির খোকনসহ অন্যান্য নেতা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

শুনানিতে এজে মোহাম্মদ আলী শুনানিতে বলেন, আপিলকারী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এটা লুঘু প্রকৃতির দণ্ড। কোর্টের প্রথা রয়েছে কেউ নারী হলে এবং সাজা কম হলে আদালত জামিন দিয়ে থাকে। তিনি জামিন আবেদন থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। 

পরে জামিনের বিরোধিতা করে দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগের রায় রয়েছে এ ধরনের লুঘু দণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। আর জামিনও দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, আপিলকারীর শারীরিক অবস্থার বর্ননা দিয়ে জামিন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এর স্বপক্ষে কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট তারা আদালতে দাখিল করেননি। 

এ সময় আদালত বলেন, উনারা তো শারীরিক অবস্থার বিষয়টি এফিডেভিট আকারে দিয়েছেন। আপনি যদি অস্বীকার না করেন তাহলে ধরে নিতে হবে এটা ঠিক আছে। 

দুদক কৌসুলি বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এই মামলার আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। কিন্তু জেনারেল ক্লজেস এ্যাক্টের ২৬ ধারা বিবেচনায় নিয়ে ৪০৯ ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। আপিল বিভাগ সাবেক রাষ্ট্রদূত এটিএম নাজিমউল্লাহর মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। 

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এ বিষয়টি তো বিচারিক আদালতের আদেশের অংশে দেখতে পাচ্ছি না। যদিও বিচারক রায়ে অনেক কথাই বলেছেন। দুদক কৌসুলি বলেন, আগে তো দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। এরপর আসে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি। তিনি বলেন, আপিলকারীর জামিন আবেদন থেকে দেখতে পাচ্ছি তার কাস্টডি পিরিয়ড হচ্ছে ২ মাস ৫ দিন। আসামির কাস্টডি পিরিয়ড এবং অপরাধের গভীরতা দেখে তাকে জামিন দেওয়া যায় না। তবে খালেদা জিয়ার বয়স নিয়ে আমাদের কোনো বিরোধিতা নেই। আর জামিন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ার। 

এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দেশের ইতিহাসে এ মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে এতিমের টাকা খোয়া গেছে। আর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কেউ তার দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। খালেদা জিয়া ছিলেন সরকার প্রধানও। 

অরফানেজ মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিলম্বের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মামলাটি ২০০৮ সালে দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালে মামলাটি বাতিলের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ওই আবেদন ২০১১ সালে নিষ্পত্তি হয়েছে। এ জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। 

এ সময় আদালত বলেন, নিষ্পত্তি তো দ্রুতই হয়েছে। অনেক মামলা তো বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এই মামলায় খালেদার পক্ষে বার বার উচ্চ আদালতে আসার বিষয়টি তুলে ধরেন। 

বিডি-প্রতিদিন/২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow