Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২২ মার্চ, ২০১৮ ২১:০৬ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৮ ২১:১৩
অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ নৃত্য-গীতে অভিনন্দন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ নৃত্য-গীতে অভিনন্দন
bd-pratidin

আন্দোলনে যোদ্ধা, সংকটে বোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গণের মানুষেরা। আর দেশের জন্য যখন দূরদেশ থেকে সুখবর ভেসে আসে, তখন তারা মেতে উঠেন উচ্ছ্বাসে। যেমনটি হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তাকে নৃত্য-গীতে উদযাপন করেছেন সংস্কৃতিজনরা। ছিল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনা, মুগ্ধ করেছে অ্যাক্রোবেটিক দলের সদস্যরাও। 

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধায়নে ও শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আজ বিকেল থেকে রাত অব্দি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যাতে অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশবরেণ্য শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চে স্বর্তর্স্ফূত অংশগ্রহণ ছিল শিল্পকলা একাডেমির শিশু, সঙ্গীত ও নৃত্য দলের দেড় সহস্রাধিক সদস্যরা। 

সব মিলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই মনোজ্ঞ হয়ে ওঠে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সে সঙ্গে আতশবাজি আর লেজারের ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে উঠে স্টেডিয়াম ও এর চারপাশের এলাকা। ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দপ্তর, অধিদপ্তরের সঙ্গে দুপুরে বের করে আনন্দ শোভাযাত্রা। রাজধানীর নয়টি ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে এ শোভাযাত্রা প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। শোভযাত্রাগুলো স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর পরই শুরু হয় এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

সন্ধ্যা সোয়া সাতটার কিছু অাগে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিক মুজিব, অর্থমন্ত্রী অাবুল মাল অাবদুল মুহিত, সংস্কৃতিমন্ত্রী অাসাদুজ্জামান নূর।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝপথে লেজার শোয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের নানা সময়কার ইতিহাস ও উন্নয়নের কর্মকান্ড। স্টেডিয়ামে স্থাপিত বড় পর্দায় প্রদর্শিত হয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের তথ্যচিত্র। এর পর আজ সকালে বঙ্গবন্ধু অান্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্রের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের ধারণকৃত অংশ প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ধারণকৃত বক্তব্য শেষ হতেই রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে উঠে আতশবাজির ঝলকানিতে। হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয় উঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

এর অাগে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠান মঞ্চে শুরু হয় মূল আয়োজন। প্রথমেই শতজন ঢাকি ঢাক-ঢোলের মূর্চ্ছনায় মুখরিত করে তোলেন চারপাশ। তারা নামতেই যুদ্ধাংদেহী নৃত্য রায়বেঁশে। সামিনা হোসেন প্রেমার পরিচালনায় এ নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন ভাবনা’র নৃত্যশিল্পীরা। নূপুরের নিক্কনধ্বনি থামতেই অর্ধশত বংশীবাদক বাঁশিতে সুর উঠে আনন্দের।

বাঁশির সুরে যখন হৃদয় মাতোয়ারা ঠিক তখনই মঞ্চে প্রবেশ করেন শিল্পকলা একাডেমির শিশুশিল্পীরা। সম্মিলিত কণ্ঠে তারা গেয়ে শোনায় ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের/ এ মাটি মানবতার’ গানটি। 

অনুষ্ঠানে এম আর ওয়াসাকের পরিচালনায় নন্দন কলা কেন্দ্রের দুই শতাধিক নৃত্যশিল্পীরা 'ধনধান্যে পুষ্পভরা'  গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। শিশু একাডেমির শিশুশিল্পীরা 'অামরা সবাই বাঙালি' ও 'তীরহারা এ ঢেউয়ের সাগর' গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে৷ শতজন দোতারা শিল্পী দুই তারে গানের সুর তোলেন। অনীক বোসের পরিচালনায় স্পন্দনের নৃত্য শিল্পীরা 'চলো বাংলাদেশ' গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। শতজন বাউল গেয়ে শোনান ‘অামার ঘর কানায় কে বিরাজ করে’। ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের নৃত্যশিল্পীরা বিভিন্ন গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় ছাতা নৃত্য। 

এর পরের পরিবেশনা সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় গ্রাম বাংলায়। নড়াইল থেকে আগত লাঠিয়াল দল স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকদের মুগ্ধ করেন লাঠি খেলার কসরতে। তামান্না রহমানের পরিচালনায় তার দল নৃত্যছন্দে পরিবেশন করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ইস্কাটন গার্ডেন স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীরা সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে। মুগ্ধ করে শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের চমৎকার পরিবেশনা। ছিল অন্তর দেওয়ানের পরিচালনায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, গারো, হাজং, সাঁওতাল, ওরাও, মুরং, তংঞ্চঙ্গা ও চাক সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনা। ওয়ার্দা রিহাবের পরিচালনায় ধৃতি নৃত্যালয় পরিবেশন করে ধামাইল নৃত্য। বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করেন শফি মন্ডল ও চিশতী বাউল। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল পরিবেশন করে নানা-নাতির অম্ল-মধুর সম্পর্কের গম্ভীরা। ছিল দশ মিনিটের লোকজ যন্ত্রসঙ্গীতের সুরমূর্চ্ছনা। বেহালা, সারিন্দা, সরোদ, সেতার, দোতারা, খোল, তবলা, ঢোলের সঙ্গে ছিল কিবোর্ড, প্যাড, পারকিশনের যুগলবন্দী। অনুষ্ঠানে ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন করে নেমেসিস। মূল আর্কষণ হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রুনা লায়লা, মমতাজ ও জেমস।

বিডিপ্রতিদিন/ ২২ মার্চ, ২০১৮/ ই জাহান

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow