Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:৫৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৩:৩৫
বিএনপি বৃহত্তর ঐক্য করবে ড. কামালের নেতৃত্বে
আগামী সপ্তাহে আসতে পারে ঘোষণা
মাহমুদ আজহার
বিএনপি বৃহত্তর ঐক্য করবে ড. কামালের নেতৃত্বে
ফাইল ছবি

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে নীতিগত একমত হয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। 

এর আগে সোমবার রাতে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন বিএনপির এক শীর্ষ পর্যায়ের স্থানীয় নেতা। ওই বৈঠকেই যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির বিভিন্ন দাবি ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দলই পরস্পরের দাবিগুলোও মেনে নেয়। 

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যোগ দিতে পারে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। সেখান থেকেই জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের রূপরেখা আসতে পারে।

গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। 

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। বৈঠকে চলমান রাজনীতিসহ আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। 

জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বরের ওই সমাবেশে বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ কয়েকটি বাম দলের শীর্ষ নেতারা যোগ দেবেন। 

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী গতকাল রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আমরা ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যোগ দেব। যুক্তফ্রন্টের সবাই যোগ দেবে। আমরা চাই, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ড. কামাল হোসেন একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তি। তার মধ্যে কোনো কালিমা নেই। জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে তার সঙ্গে বিএনপি যে কোনো বিষয়ে একমত হয়ে কাজ করতে পারে। তা ছাড়া যুক্তফ্রন্টের নেতাদেরও বাংলাদেশের সবাই চেনে ও জানে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবারই সরব ভূমিকা রয়েছে। তাই সবাই মিলেই আমরা একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠন হয়ে গেছে। এখন শুধু ঘোষণার বাকি। আগামী সপ্তাহেই এ ঘোষণা আসতে পারে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বকে সবাই পছন্দ করেছে। তবে যুক্তফ্রন্টের সবাই তারকা নেতা। বিএনপি আর যুক্তফ্রন্ট একসঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচিতে যাবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, আমরা কিছু মৌলিক ইস্যুতে জাতীয় বৃহত্তর ঐক্য করছি। এর মধ্যে মূল দাবি হচ্ছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন, যা আজ অনুপস্থিত। এ লড়াইয়ে আমরা যুক্তফ্রন্টসহ সরকারবিরোধী অন্য সব দলকে পাশে পাব বলে আশা করছি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দেওয়া, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে মাঠে নামানো, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনসহ বেশ কিছু মৌলিক দাবিতে আমরা সবাই একমত। এ বিষয়গুলো নিয়েই আমরা মাঠে নামব। 

যুক্তফ্রন্টের নেতা মাহী বি চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাভাবে থাকলে বিকল্পধারা সেখানে থাকবে না। এ বিষয়ে তিনি বিএনপির কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণাও চান। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াত থাকবে কি না- এমন এক প্রশ্নে বিএনপি স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানান, জামায়াতের তো নিবন্ধনই নেই। তারা তো দলগতভাবে নির্বাচনও করতে পারবে না। সুতরাং তাদের নিয়ে আলোচনার কিছু থাকতে পারে না। 

এ নিয়ে মাহী বি চৌধুরীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বলেন, বি চৌধুরী যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন মাহী বি ও জামায়াত নেতারা এক কাতারেই ছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে জামায়াত নেতাদের শপথও পড়িয়েছেন বি চৌধুরী। তার ছেলে মাহী বি চৌধুরীও জামায়াত নেতাদের পাশে ছিলেন। এখন তিনি সুর পাল্টেছেন।

এদিকে জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল বিকালে ড. কামাল হোসেন বৈঠক করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ পাঁচ নেতার সঙ্গে। বিকাল পাঁচটার দিকে কামাল হোসেনের বেইলি  রোডের বাসায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। 

পরে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন। জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে,  দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।  সেদিক  থেকে আমরা মনে করি ঐক্যবদ্ধ কাজের অনেক জায়গা আছে। সে ঐক্যবদ্ধ কাজগুলো কীভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয় নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটে আলোচনা করা হবে। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চলবে।’

বিডি-প্রতিদিন/ ই-জাহান

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow