Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৪৮ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫
আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী
রুহুল আমিন রাসেল ও কাজী শাহেদ, নিউইয়র্ক থেকে:
আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার কাজ করছে : প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে ব্রিটিশ মন্ত্রীকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট সোমবার নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
 
পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক জানান, জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে জেরেমি হান্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক হয়।
 
আগামী নির্বাচন সম্পর্কে বলতে গিয়ে জেরেমি হান্ট জানান, তারা বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ব্রিটিশ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিত নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। 
 
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে সমস্যাটা কোথায়, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান জেরেমি হান্ট। রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে চুক্তি হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তখন তাকে বলেন, চুক্তি করলেও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে বলে অভিযোগ আছে, এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া উচিত হবে কিনা- তা জানতে চান জেরেমি হান্ট। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারলে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে অস্থায়ী আবাসস্থল নির্মাণের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সহযোগিতা কামনা করেন।
 
ওই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
 
শান্তি এখনও অধরা: 
জাতিসংঘ সদর দফতরে নেলসন শান্তি সম্মেলনে বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব শান্তির জন্য বিশ্ব নেতাদের সব বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করতে হবে। শান্তি এখনও অধরা, তাই সব পরিস্থিতিতে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলতে হবে। 
 
সোমবার নিউইয়র্ক সময় সকালে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়াতে হবে, সহনশীলতাকে উৎসাহিত করতে হবে। বৈষম্য ও শোষণ থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে হবে। সন্ত্রাসবাদের মতো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধের জন্য বিশ্বনেতাদের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
 
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন। যে কোনো পরিস্থিতিতে মানবাধিকার উন্নয়নে ও সুরক্ষার জন্য শান্তি ও অহিংসার সংস্কৃতির চর্চা করুন। মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা, যার জন্য ম্যান্ডেলার মতো নেতারা লড়াই করেছিলেন, তা এখনও সুরক্ষিত নয়। বিশ্বের অনেক অংশে মানুষ ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভুগছে। বর্ণবাদ এবং অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ বৈষম্য, জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি, অত্যাচার, এমনকি জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে গণহত্যার শিকার হচ্ছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিগত নির্মূলের শিকার হওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
 
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন অংশে জীবন রক্ষা করছে। আমরা দ্বন্দ্ব প্রতিরোধ, মানবাধিকার উন্নয়ন ও উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করি। নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আমাদেরকে নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন।
 
 
বিডি প্রতিদিন/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow