Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:৫৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:১৯
বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন যুগোপযোগী ও ত্রিমাত্রিক: রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন যুগোপযোগী ও ত্রিমাত্রিক: রাষ্ট্রপতি
পতেঙ্গা নেভাল একডেমিতে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ এবং প্যারেড ময়দান পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু দেশের প্রয়োজনে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সেই মহান প্রত্যয়ের আলোকেই বর্তমানে নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নৌবহরে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে মিডশীপম্যান ২০১৬ ব্যাচ ও ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার (ডিইও) ২০১৮/বি ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

সদ্য কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে মিডশীপম্যান ২০১৬ ব্যাচের আহমেদ রিদওয়ান খান সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে সেরা চৌকস মিডশীপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন।

এছাড়া মিডশীপম্যান ইজাজ মাহমুদ শুভ প্রশিক্ষণে ২য় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডিইও ২০১৮/বি ব্যাচ থেকে অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট সাঈফ হোসেন শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী নৌসেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন তার বক্তৃতায়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে চালু হয়েছে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানের সুবিশাল বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স। নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন থেকে ২টি মিসাইল ফ্রিগেট এবং নির্মাণাধীন ২টি করভেট শিগগিরই নৌবহরে যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ার লক্ষ্যে মিসাইল, আইএফএফ সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রকার আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কাজও চলমান। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ ঘাঁটি ‘বানৌজা শের-ই-বাংলা’ এবং ‘বানৌজা শেখ হাসিনা’ ঘাঁটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি ঢাকায় জাতির পিতার নামে প্রথমবারের মতো একটি নৌঘাঁটি ‘বানৌজা শেখ মুজিব’ এর কমিশনিং এবং একইসাথে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ২২টি বহুতল ভবন ও অবসরপ্রাপ্ত নৌসদস্যদের আবাসনের জন্য টাউনশীপ সাভার প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, নৌ সদর দপ্তরের পিএসও, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আঞ্চলিক অধিনায়কসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নৌ কমান্ডোসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দেশি-বিদেশি কূটনীতিক এবং শিক্ষা সমাপণী ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। 

বিডি-প্রতিদিন/০৯ নভেম্বর, ২০১৮/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow