Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৯:২৬ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:২২
ধান নিয়ে উপজেলায় যাবে না বিএনপি, স্বতন্ত্রে আপত্তি নেই
মাহমুদ আজহার
ধান নিয়ে উপজেলায় যাবে না বিএনপি, স্বতন্ত্রে আপত্তি নেই

সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর উপজেলা পরিষদের ভোটে দলীয় প্রতীকে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে কেউ স্বতন্ত্র ভোট করতে চাইলে তাতে আপত্তি করবে না দলটি। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মতামত নিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও দলের অধিকাংশ নেতা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও একই মত বলে জানা গেছে। তবে উপজেলা নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। উপজেলা ভোট প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ নির্বাচনে জনগণের প্রতিনিধিত্ব হয়নি। জনগণের ভোটাধিকার ডাকাতি করা হয়েছে। এ কারণে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এ নির্বাচন বয়কট করেছে।’ সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর বড় অংশই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবেও সবুজ সংকেত দেওয়া আছে। বিএনপি যদি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ না নেয়, তাহলে স্বতন্ত্রভাবেই লড়বেন স্থানীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্র্থী হলেও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলবে না। এরই মধ্যে বিএনপির অনেক প্রার্থী অনানুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগও শুরু করেছেন। নিজ নিজ উপজেলায় অনেকেই এরই মধ্যে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে পোস্টারও সাঁটিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকেও চলছে নানা প্রচারণা। শুধু বিএনপিই নয়, ২০-দলীয় জোটের শরিক দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্থানীয় জনপ্রিয় নেতারাও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন। বিএনপি জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর, গণফোরামসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোও স্থানীয়ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানা যায়, বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় একটি অংশই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের পক্ষে। তাদের যুক্তি, জাতীয় নির্বাচনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সামলে ওঠার আগেই আরেকটি নির্বাচনে অংশ নিলে কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না। উল্টো এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর আরেক দফা মামলা-হামলা হবে। এ ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দলের পক্ষ থেকে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, সেটিও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বর্তমান সরকারকে দ্বিতীয়বার বৈধতা দেওয়ার পক্ষে নন তারা। তবে বিএনপির ক্ষুদ্র একটি অংশ মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে কখনোই ভোট বর্জন সমাধান হতে পারে না। জাতীয় নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা রাখতেই ভোটে অংশ নেওয়াটা জরুরি। এর মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে আবারও মাঠে থাকতে পারবেন। অন্যথায় কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে পড়বে। আর মামলা বা গ্রেফতার ঘরে বসে থাকলেও হবে। তাদের যুক্তি, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে সেই চিত্র আরেকবার ফুটে উঠবে। জাতীয় নির্বাচনে কতটা অনিয়ম হয়েছে তা প্রমাণ করতে এটা একটা ভালো সুযোগ। বিএনপির দফতর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এখন আমাদের মূল কাজ হলো কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জাতীয় নির্বাচনে মামলা-হামলায় নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। সেই চেষ্টাই আমরা করছি। নেতা-কর্মীদের জামিন করাতে দলীয় আইনজীবী নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ বা মারা যাওয়া নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখন ভাবছে না।

আপনার মন্তব্য

up-arrow