Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:০২ অনলাইন ভার্সন
সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৬৪৩ কোটি
বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি
নিজস্ব প্রতিবেদক
বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমানে সরকারি, আধা সরকারি/ বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন (প্রাইভেট) কোম্পানিগুলোর কাছে মোট ৬ হাজার ৮৮২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৬৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, আধাসরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৭৬৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং প্রাইভেট (ব্যক্তিমালিকানাধীন) প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫ হাজার ৪৭৬ কোটি ৬ হাজার টাকা।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের সোমবারের বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে নজরুল ইসলাম বাবুর (নারায়নগঞ্জ-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। 

সংসদে দেয়া মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, ৩২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখে প্রথম স্থানে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ২য় স্থানে আছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বকেয়া পরিমাণ ১৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বকেয়ায় তৃতীয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বকেয়া-১২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। চতুর্থ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ৭৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ৫ম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৬ষ্ঠ ধর্ম মন্ত্রণালয়, বকেয়া ৪৩ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং সবচেয়ে কম বকেয়া রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা ও বাণিজ্যে মন্ত্রণালয়ের বকেয়া আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

তিনি জানান, এসব বকেয়া বিল আদায়ে ট্রাক্সফোর্স গঠন করে ঝটিকা অভিযান চালান হচ্ছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, সেই সাথে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। 

বসুন্ধরা এককভাবে উৎপাদন করে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন :
এ কে এম রহমতুল্লাহের এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, দেশে বর্তমানে এলপিজি উৎপাদনে ও বোতলজাতকরণের প্লান্টের সংখ্যা মোট ২২টি। যার মধ্যে সরকারি ২টি এবং ২০টি বেসরকারি মালিকানাধীন। সম্মিলিতভাবে ২২টি কোম্পানি উৎপাদন করে ৭ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।এর মধ্যে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লি. এককভাবে উৎপাদন করে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। 

এম আবদুল লতিফের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, এলএনজি বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়। দেশে মোট এলএনজির চাহিদা ৩ মিলিয়ন টন এবং আমদানি হচ্ছে মাত্র ৭ লাখ টন। 

একই প্রশ্নকর্তার লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া বিদেশ থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট লিক্যুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস ( এলএনজি) জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে। ফলে বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা রয়েছে। 

৫৩টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন ও ১৯টি প্রক্রিয়াধীন : 
মাহফুজুর রহমানের (চট্টগ্রাম-৩) প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে ১৩ হাজার ২৬৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলো ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। এছাড়া ৭ হাজার ৫৬৮ ক্ষমতা সম্পন্ন ১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিমার্ণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আরো ১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভারতে দু’টি স্থান হতে ১ হাজার ৮৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ আমদানী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা ২০২০ হতে ২০২২ সালের মধ্যে শুরু হবে। 

তিনি আরও জানান, নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রায় ২৩ হাজার সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। একইসময়ের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিমাণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। 

নতুন ২ কোটি ১৭ লাখ সংযোগ : 
বজলুল হক হারুণের  (ঝালকাঠি-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নতুন ২ কোটি ১৭ লাখ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৩ কোটি ২৫ লাখে উন্নীত হয়েছে। নতুন ২ লাখ ৩৫ হাজার কিলিমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বিতরণ লাইন এখন ৪ লাখ ৯৫ হাজার। বিদ্যু সুবিধা পাওয়া জনগোষ্ঠীর পরিমাণ ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯২ ভাগে উন্নীত হয়েছে (নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ)। মাথাপিছু বিদ্যু উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়ান্ট ঘণ্টা থেকে বেড়ে ৪৬৪ কিলোওয়াট ঘণ্টা দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুতের সিস্টেম লসের পরিমাণ শতকরা ১৬.৮৫ ভাগ থেকে কমে ১১.৮৭ ভাগে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০০৯ সালের চেয়ে প্রায় চারগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার ৮৫৪ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য) উৎপাদন হচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে ২৫ হাজার ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১২ হাজার ৬৬১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১০৮টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। ভারত হতে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়েছে। 

১৪টি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু : 
ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ১ হাজার ১৬৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৪ টি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রয়েছে। তিনি জানান বর্তমানে গ্যাস থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ২.৮০ টাকা, ডিজেল থেকে ১৯.৩০ টাকা, ফার্নেস ওয়েল থেকে ১১.৪৮ টাকা এবং কয়লা থেকে  প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৭.৩৮ । উৎপাদন খরচ বেশী হলেও ভর্তূকি দিয়ে বিদ্যুতের বিক্রি মূল্য ৪.৮২ টাকা বলে জানান তিনি। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

up-arrow