Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:২৭
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৪৯

চিরনিদ্রায় শায়িত কবি আল মাহমুদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

চিরনিদ্রায় শায়িত কবি আল মাহমুদ
ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ জন্মভূমিতে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। 

রবিবার বাদ যোহর জেলা শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে দক্ষিণ মৌড়াইল এলাকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কবির মৃতদেহ নেওয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে প্রিয় কবিকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে সমবেত হন। 

নামাজে জানাজা শেষে জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, জেলা ছাত্রদল, জেলা উন্নয়ন পরিষদ, মৌড়াইল গ্রামবাসী, বিডি ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ইউনেস্কো ক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পক্ষ থেকে কবির কফিনে পুষ্পস্তক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

কবির ছেলে মীর মাহমুদ মনির বলেন, আমার বাবা শুধু একজন কবি নন, একজন মুক্তিযোদ্ধাও। তিনি নদ, নদী ও প্রকৃতি নিয়ে লেখার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.), ইসলাম, ক্ষুদিরাম, তিতুমীরসহ অনেক বিষয় নিয়ে কবিতা লিখেছেন। আমার বাবার ভালো গুণ ছিল, তিনি অল্পতেই সন্তুষ্ট হতেন।

গত শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান ‘সোনালী কাবিন’ এর কবি আল মাহমুদ। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

পর দিন শনিবার দুপুরে কবির মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেয়া হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী কবির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর কবির মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আল মাহমুদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় আল মাহমুদের মরদেহ শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

আল মাহমুদ শুধু আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি নন, তিনি একাধারে ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক।

কবি আল মাহমুদের পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মীর আবদুর রব ও মাতার নাম রওশন আরা মীর। 

সাহিত্যে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এ কবি। 

আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি। 

বিডি প্রতিদিন/১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/আরাফাত


আপনার মন্তব্য