Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৪৯

ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি

'তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি'

নিজস্ব প্রতিবেদক

'তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় ফরাসউদ্দিনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি'
আ হ ম মুস্তফা কামাল (ফাইল ছবি)

সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত যাতে প্রভাবিত না হয়, সে করাণে ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। চুরি যাওয়া রিজার্ভের টাকা উদ্ধারে কাজ চলমান রয়েছে। যখনই কোনো অগ্রগতি হবে তা সংসদকে অবহিত করা হবে। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে কার্যপ্রণালীর ৩০০ বিধিতে অর্থমন্ত্রীর এ বিবৃতি দেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। 

বিবৃতিতে আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। এর সঙ্গে বিদেশী একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও ফিলিপাইন সরকার তদন্তে নামে। এর ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কা হতে ২০ মিলিয়ন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয় এবং ফিলিপাইন হতে ১৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই নিজ দেশে হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং ফিলিপাইনে এন্টি ম্যানি লন্ডারিং কাউন্সিল ম্যানি লন্ডারিংকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সেখান থেকে আমরা রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যথেষ্ট পরিমাণ প্রমাণাদি পেয়েছি। আর এসব প্রমাণাদি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আইনী প্রতিষ্ঠান গত জানুয়ারিতে আমাদের পক্ষে মামলা করেছে। আমরা নির্দিষ্ট সময়ে এই মামলা দায়ের করতে পেরেছি। চুরি যাওয়া রিজার্ভ উদ্ধারে কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে যখনই কোন অগ্রগতি হবে তা সংসদকে অবহিত করা হবে। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের মাধ্যমে আমাদের রিজার্ভের একটি অংশ শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে পাচার করা হয়। তারা ৯৫১ মার্কিন ডলার পাচারের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ৫টি ফলস পেমেন্ট ইন্সট্রাক্টরের মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ট্রান্সফার সম্পন্ন হওয়ার পর নিউইয়ার্কের ফিডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়। রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরকার চুরি হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার, চুরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যৎ চুরি রোধে সম্ভব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। তিনি দ্রুততার সাথে সরকাকে রিপোর্টও প্রদান করেন। পাশাপাশি পুলিশের তদন্ত বিভাগকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। তাই ড. ফরাস উদ্দিন আহমদের রিপোর্টটি ফৌজদারী তদন্ত কার্যক্রমে যাতে কোন প্রভাব না ফেলে তার জন্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিডি-প্রতিদিন/১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য