Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৬ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৩
নৌকা ৪৭ ভাগ, ধানের শীষ ১৯
ইউপির ফলাফল বিশ্লেষণে এগিয়ে স্বতন্ত্ররাও
গোলাম রাব্বানী

তৃণমূলের জনপ্রিয় ইউপি নির্বাচনে এবার নৌকায় ভোট পড়েছে ধানের শীষের আড়াই গুণ। আর নৌকা জয় পেয়েছে ধানের শীষের সাত গুণ বেশি ইউপিতে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২ কোটি ৪০ লাখের মতো ভোট পেয়েছে। বিএনপি পেয়েছে ৯৫ লাখের মতো ভোট। আওয়ামী লীগ ৪৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, বিএনপি ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ছয় ধাপে ৪ হাজারেরও বেশি ইউপির ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দলের মনোনয়নবঞ্চিত অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন দেড় কোটিরও বেশি। এসব ইউপিতে নৌকা প্রতীক জয় পেয়েছে ২ হাজার ৬৭০ ইউপিতে, বিএনপি ৩৭২ ইউপিতে, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে ৮৮০ ইউপিতে। বাকিগুলোয় রয়েছেন জাতীয় পার্টি, জাসদ, জেপি ও কয়েকটি দলের প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৭৪, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮, তৃতীয় ধাপে ৭৬, চতুর্থ ধাপে ৭৭, পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৮ ও ষষ্ঠ ধাপে ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

চেয়ারম্যান পদে প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক ভোট হয়েছে এবার। এতে ৬ কোটি ৭৫ লাখেরও বেশি ভোটার ছিল এসব ইউপিতে। ৪ হাজারেরও বেশি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের সাত গুণেরও বেশি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীনদের এক তৃতীয়াংশের সমানসংখ্যক ইউপিতে। ইউপিভিত্তিক জয় ও ভোটারের এমন তারতম্যের পরও ক্ষমতাসীনদের ‘নিরঙ্কুশ’ জয়কে কোনোভাবেই জনপ্রিয়তার মাপকাঠি বলে মানছেন না পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, এবার ক্ষমতাসীন ও তাদের বিদ্রোহীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। সংসদের বাইরে থাকা দল বিএনপি এবার ইউপিতে ‘গা লাগিয়ে’ ভোট করতে পারেনি। সেই সঙ্গে সহিংসতা, দখল, কারচুপি ও সন্ত্রাসের কবলে ছিল এ ভোট। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতী ও জানিপপের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সংসদের ভোটের মতো ভিন্ন বলয়ের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহজ সরলীকরণও সঠিক হবে না। সুষ্ঠুভাবে ভোট না হওয়ায় তৃণমূলের ভোটের এ চিত্র প্রকৃতপক্ষে জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হতে পারে না।

ভোটের হার : নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, প্রথম ধাপে ৭৪, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮, তৃতীয় ধাপে ৭৬, চতুর্থ ধাপে ৭৭, পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৮ ও ষষ্ঠ ধাপে ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৪৭ দশমিক ২৭, বিএনপি ১৮ দশমিক ৮১ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ছয় ধাপে ভোট পেয়েছেন ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৬টি। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৬২০টি, দ্বিতীয় ধাপে ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭৭টি, তৃতীয় ধাপে ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার ৯০২টি, চতুর্থ ধাপে ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ১৯২টি, পঞ্চম ধাপে ৪২ লাখ ২৮ হাজার ৬১৮টি এবং শেষ ধাপে ৩৯ লাখ ২২ হাজার ৫১৭টি ভোট পড়েছে নৌকায়। ধানের শীষে ভোট পড়েছে ৯৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯০টি। এর মধ্যে প্রথম থেকে ষষ্ঠ ধাপে পর্যায়ক্রমে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৩১টি, ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৩টি, ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৩টি, ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৭১৮টি, ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৮টি এবং ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৭টি ভোট পেয়েছে বিএনপি। গড়ে প্রতি ধাপে ২৭ লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১ শতাংশের ওপরে ভোট পেয়েছে।

ছয় ধাপে আওয়ামী লীগ ২৬৭০, বিএনপি ৩৭২ : ভোটে অন্তত দেড় ডজন দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। পাঁচ ধাপে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা ২ হাজার ৬৭০ ও ধানের শীষের প্রার্থীরা ৩৭২ ইউপিতে জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন ৮৮০ জন। জাতীয় পার্টি অর্ধশত, জাসদ এক ডজন ইউপিতে এবং জেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলও জিতেছে এ ভোটে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা : ইসির জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তারা জানান, এবার ছয় ধাপে ২২০ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শেষ পর্যায়ে ভোট বন্ধ হওয়ায় দুজন বাদ পড়েছেন এ তালিকা থেকে। ২১৮ জন বিনা ভোটে পার-এর তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের জয়ী রয়েছেন ২১৫ জন। বাকি তিনজন স্বতন্ত্র। প্রথম ধাপে ৫৪, দ্বিতীয় ধাপে ৩৪, তৃতীয় ধাপে ২৯, চতুর্থ ধাপে ৩৫, পঞ্চম ধাপে ৪২ ও শেষ ধাপে ২৪ জন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।    




এই পাতার আরো খবর
up-arrow