Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৮
‘এই ব্যাটা চুপ থাক, যা নির্দেশ দেই তাই কর’
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় পাঁচ র্যা ব সদস্যের সাক্ষ্য
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত র‌্যাব-১১-এর ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন এম এম রানা (চাকরিচ্যুত ও অবসরে পাঠানো নৌবাহিনী কমান্ডার)। সাতজনকে অপহরণের পর রাতে র‌্যাবে কর্মরত লিডিং সি ম্যান আবদুস সামাদ, নায়েক আজম আলী ও আবদুর রাজ্জাককে জানানো হয় ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে কাঁচপুর যেতে। নির্দেশ মোতাবেক তারা কাঁচপুর যান। সেখানে সাতজনের লাশ ওঠানোর সময় তারা আঁতকে উঠে অফিসারদের বলেন, ‘লাশ কেন স্যার! আমাদের তো টহল দেওয়ার কথা। লাশ বহনের তো কথা না।’ তখন আরিফ হোসেন (র‌্যাব-১১-এর সাবেক উপ-অধিনায়ক ও ইতিমধ্যে অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর মেজর) বলেন, ‘এই ব্যাটা চুপ থাক। আমি যা নির্দেশ দেই তাই কর।’ পরে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে সাতজনের মৃতদেহ শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীর মোহনায় নিয়ে ফেলে আসা হয়। গতকাল সকালে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় সময় এসব তথ্য দেন লিডিং সি ম্যান আবদুস সামাদ, নায়েক আজম আলী ও আবদুর রাজ্জাক। আদালত সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়াও সাক্ষ্য দেওয়া অন্য দুজনের মধ্যে মেজর সুরুজ জানান, তিনি নরসিংদী ক্যাম্পে থাকার সময় নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের কয়েকজন সদস্য গিয়ে খাবারের জন্য দুই হাজার টাকা চেয়ে নেন। পরে তিনি সাত খুনের বিষয়গুলো জানতে পারেন। র‌্যাব-১১-এর ডিএডি আবদুস সালাম শিকদার জানান, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সকালে তাকে মেজর আরিফ নির্দেশ দেন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে চেকপোস্ট বসাতে। দুপুরে ফোন দিয়ে জানান সাদা ও কালো রঙের দুটি প্রাইভেট কার আটকাতে।

দুপুরে ওই দুটি প্রাইভেট কার আটকানোর আগেই মেজর আরিফ হোসেন ও কমান্ডার এম এম রানাকে বহন করা দুটি গাড়ি ওই কালো ও সাদা প্রাইভেট কারের সামনে গিয়ে গতিরোধ করে। তখন দুটি গাড়ি থেকে সাতজনকে নামিয়ে একটি নীল রঙের হাইএইস গাড়িতে ওঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত গ্রেফতার নূর হোসেনসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে র‌্যাবে কর্মরত ওই পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। শুনানি শেষে আগামী ১৩ জুন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত। এ নিয়ে ৬৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, গতকাল সাত খুনের ঘটনায় পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। তারা হলেন— খাগড়াছড়িতে অবস্থিত র‌্যাবের মেজর সুরুজ মিয়া (সাত খুনের সময় র‌্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পে ছিলেন), র‌্যাব-১১-এর ডিএডি আবদুস সালাম শিকদার, র‌্যাব-১১-এর লিডিং সি ম্যান আবদুস সামাদ, নায়েক আজম আলী ও আবদুর রাজ্জাক।

সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল হলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়েজামাই এবং অন্য বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলেন ১২৭ জন করে। এ কারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একই সঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow